জিম্বাবোয়ে সফরে ভারতের সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রেখে বিশ্ব ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সেরার পুরস্কার ঝুলিতে পুরেছেন উদীয়মান ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। তবে টুর্নামেন্ট সেরা হয়ে স্বপ্নপূরণের উল্লাসের মাঝেই মাঠের এক অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তরুণ এই ক্রিকেটারের আচরণ নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
মাঠের ‘টুপি কাণ্ড’ ও বিতর্কের সূত্রপাত
ঘটনাটি ঘটে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। ফিল্ডিং করার সময় বল তাড়া করতে গিয়ে বৈভবের মাথার টুপি খুলে পড়ে যায়। দারুণ ফিল্ডিংয়ের পর সতীর্থ বয়সে জ্যেষ্ঠ পেসার যশ ঠাকুর বৈভবের সঙ্গে হাত মেলাতে এগিয়ে আসেন।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও অনুযায়ী, যশ হাত মেলাতে এলে বৈভব তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন:
“যাও, আমার টুপি কুড়িয়ে আনো। তারপর হাত মেলাব।”
কথাটি শুনে যশ ঠাকুর এগিয়ে গিয়ে বৈভবের টুপিটি কুড়িয়ে এনে দেন। তবে একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের প্রতি তরুণ তারকার এমন আচরণে নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, অল্প বয়সে বিপুল সাফল্য পেয়ে বৈভবের মধ্যে অহংকার এসেছে। মাঠের ভেতর সিনিয়র বা যেকোনো সতীর্থের সঙ্গেই এমন আচরণ অনুচিত এবং এ বিষয়ে দলীয় কোচের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
তবে বিপরীত মতামতও রয়েছে। বৈভবের সমর্থকদের দাবি, ড্রেসিংরুমে ও মাঠে বৈভব সবসময় সিনিয়রদের ‘স্যার’ সম্বোধন করে সম্মান বজায় রাখেন। ঘটনাটি নেহাতই দুই সতীর্থের মধ্যে মজার ছলে ঘটেছিল এবং যশ ঠাকুরও বিষয়টি স্রেফ মজা হিসেবেই নিয়েছিলেন।
ব্যাটে রেকর্ডের বন্যা ও দেশপ্রেমের বার্তা
মাঠের বাইরের বিতর্ক থাকলেও ব্যাটে বলের লড়াইয়ে পুরো সিরিজে একছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন বৈভব। পুরো সিরিজে ৩টি ম্যাচে দু’টি অর্ধশতকসহ সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হয়ে পান সিরিজ সেরার স্বীকৃতি।
আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলার ধরন বজায় রেখে শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দলের স্বার্থে বড় শট খেলতে গিয়ে ৮১ রানে আউট হন বৈভব। সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বসিত বৈভব বলেন:
“সত্যিই স্বপ্ন সত্যি হলো। প্রথমবার ম্যাচ ও সিরিজের সেরা হলাম, আমি খুব খুশি। টি-টোয়েন্টিতে এটাই আমার খেলার ধরন। ব্যক্তিগত শতরানের চেয়ে দেশকে জেতানোই আমার প্রধান লক্ষ্য থাকে। অধিনায়ক ও কোচ আমার ওপর যে ভরসা দেখিয়েছেন, তার মর্যাদা দিতে পেরে ভাল লাগছে।”
জিম্বাবোয়ের এই মাঠেই আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা থাকায় এখানকার পিচ তাঁর পরিচিত ছিল বলেও জানান বৈভব। একইসঙ্গে অনুশীলনের কঠোর পরিশ্রমকেই তিনি মাঠে তাঁর এমন ভয়ডরহীন পারফরম্যান্সের চাবিকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

