বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টিতে ভেজার কারণে ঠান্ডা লাগা বা জ্বর হওয়া অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েডের মতো ব্যাকটেরিয়াবাহিত রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে দূষিত জল ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
টাইফয়েডের প্রধান লক্ষণসমূহ
টাইফয়েডের কারণ হলো সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) নামক ব্যাকটেরিয়া। সাধারণ ঠান্ডা লাগাজনিত জ্বরের সঙ্গে টাইফয়েডের জ্বরের পার্থক্য রয়েছে। এর প্রধান লক্ষণগুলি হলো:
- উচ্চ তাপমাত্রা: ঘন ঘন তীব্র জ্বর আসা, যা ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে।
- শারীরিক অস্বস্তি: তীব্র মাথাব্যথা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা এবং শরীরে র্যাশ বা লালচে দাগ দেখা দেওয়া।
- পেটের সমস্যা: হজমের গোলমাল এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র তথ্য অনুযায়ী, প্রধানত দুষিত জল ও অনিরাপদ খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে।
ঝুঁকি বাড়ায় যে সব অভ্যাস
চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কয়েকটি অনিয়ম ও অসচেতনতা টাইফয়েডের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:
১. অপরিশোধিত জল পান: রাস্তার ধারের শরবত, ফুটপাতের ফুচকা কিংবা সঠিক পদ্ধতিতে শোধিত নয়—এমন জল পানের মাধ্যমে শরীরে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ২. খাদ্য পরিচ্ছন্নতার অভাব: পরিষ্কার জলে আনাজপাতি না ধোয়া, দীর্ঘক্ষণ কেটে রাখা খাবার খোলা রাখা এবং অনিরাপদ জলে রান্না করা টাইফয়েডের অন্যতম কারণ। ৩. হাত না ধোওয়ার প্রবণতা: খাবারের আগে কেবল জল দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া পর্যাপ্ত নয়। সাবান ব্যবহার না করলে হাতে লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়া খাদ্যের মাধ্যমে পেটে প্রবেশ করে। ৪. অপরিষ্কার ফল ও কাঁচা স্যালাড: ফলমূল ও স্যালাডের কাঁচা সবজি উপযুক্তভাবে না ধুয়ে খেলে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। ৫. রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: নোংরা বাসনে রান্না করা বা সাবান না দিয়ে জল ব্যবহারের অভ্যাসেও জীবাণু ছড়াতে পারে।
টাইফয়েড প্রতিরোধে করণীয়
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: জ্বর টানা ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে, পেটের সমস্যা বাড়লে বা ত্বকে র্যাশ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। এছাড়া চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী টাইফয়েডের প্রতিষেধক টিকাও (Vaccine) নেওয়া যেতে পারে।
- নিরাপদ জল ব্যবহার: বাইরে বেরোনোর সময় বাড়ি থেকে ফোটানো বা যান্ত্রিকভাবে পরিশোধিত জল সঙ্গে রাখুন। নিয়মিত জলের বোতল সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
- বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা: বর্ষাকালে রাস্তার খোলা খাবার বা শরবত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম: খাওয়ার পূর্বে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
- রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা: রান্নার আগে সবজি ভালো করে ধুয়ে নেওয়া এবং রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখা জরুরি।

