পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকদের ঘাটতি পূরণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। রবিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ফালাকাটার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমানে রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র ও শিক্ষকের গড় অনুপাত ১:২২। আপাতদৃষ্টিতে এই সংখ্যাটিকে ইতিবাচক ও সন্তোষজনক মনে হলেও, অভ্যন্তরীণ স্তরে প্রতিটি স্কুলের পরিকাঠামোগত সংস্কারের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি নিয়ম বা চার্ট অনুযায়ী বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিক্ষকের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নতির স্বার্থে সেই শূন্যতা ও অভাব পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই সরকার এ বার বিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করতে এবং সমতা বজায় রাখতে ১:১৩ অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগ ও বদলির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’’
স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে বদলি প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন দীপক বর্মন। তিনি জানান, যে সব স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত শিক্ষক রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণ মানবিক ও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করবে। প্রথম দফায় উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় স্থানান্তরের (অপশন) সুযোগ দেওয়া হবে। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় বদলি হতে রাজি না হন, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সবচেয়ে প্রবীণ (সিনিয়র) শিক্ষককে উদ্বৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। তবে এই স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শিক্ষকের বাড়ির ঠিকানা, যাতায়াতের সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে যাতে কারও সমস্যা না হয়।
এর পাশাপাশি দূরবর্তী জেলায় কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা বর্তমানে নিজের জেলার বাইরে অন্য কোনও জেলার বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে পছন্দের জেলার নাম জানতে চাওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট জেলায় যদি শূন্যপদ থাকে, তবে তাঁদের নিজেদের জেলায় বদলি করার জন্য সরকার সর্বোচ্চ স্তরে চেষ্টা করবে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এক দিকে যেমন গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরের স্কুলগুলির শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অভাব দূর হবে, অন্য দিকে বহু শিক্ষকের ঘরের কাছাকাছি ফেরার দাবিও পূরণ হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

