প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ, ভারতের বর্ষা নিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে ‘আইওডি’

প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ, ভারতের বর্ষা নিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে ‘আইওডি’

পূর্বাভাস সত্যি করে প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে আবহাওয়ার খামখেয়ালি রূপ ‘এল নিনো’র। ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) এবং জাপানের আবহাওয়া দফতর (জেপিএ) যৌথভাবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। চলতি বর্ষার মরসুমে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে আইএমডি। তবে এর পাশাপাশি ভারতের বর্ষা নিয়ে একটি আশার কথাও শুনিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি ও এল নিনোর দাপট

ভারত মহাসাগরীয় দ্বিমেরুকরণ বা ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (আইওডি)-এর জুনের বুলেটিন সূত্রে জানানো হয়েছে, মধ্য এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রম করেছে। জাপানের আবহাওয়া দফতরের (জেপিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনোর আবির্ভাব ঘটেছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুন থেকে অগস্ট মাসের মধ্যে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। সাধারণত এল নিনো শক্তিশালী হলে ভারতীয় উপমহাদেশে বর্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং দেশের কিছু কিছু অংশে খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ঢাল হতে পারে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (আইওডি)

এল নিনোর ভ্রুকুটি থাকলেও ভারতের বর্ষা একেবারে ভেস্তে যাবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। আইএমডি-র মতে, এল নিনো একচ্ছত্রভাবে ভারতের বর্ষাকে সম্পূর্ণ প্রভাবিত করতে পারে না।

জাপানের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে ভারত মহাসাগরে একটি ‘ইতিবাচক আইওডি’ (Positive IOD) তৈরি হতে পারে, যা এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

কী এই আইওডি পরিস্থিতি? ভারত মহাসাগরের এই বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে মহাসাগরের উষ্ণ পশ্চিমাংশ আর্দ্রতাপূর্ণ বায়ুকে অতিরিক্ত শক্তি দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে টেনে আনে, যার ফলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। এই সময়ে পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে এবং পূর্ব অংশ শীতল থাকে। এই আইওডি শক্তিশালী হলে এল নিনোর প্রভাব নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে দেশে বর্ষার ঘাটতি না-ও হতে পারে।

এক নজরে: কী এই এল নিনো?

  • নামকরণ: স্প্যানিশ শব্দ ‘এল নিনো’র অর্থ হলো ‘ছোট্ট ছেলে’। শত শত বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার মৎস্যজীবীরা প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক সামুদ্রিক স্রোতটি প্রথম লক্ষ্য করেন এবং এর নামকরণ করেন।
  • প্রক্রিয়া: সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরে পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী বাতাস উষ্ণ জলকে ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর অন্তর এই বায়ুপ্রবাহ হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে উষ্ণ জলধারা পুনরায় পূর্ব দিকে ফিরে আসে এবং দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল ঘেঁষে বইতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জলভাগ অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠে, যা আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এল নিনো’ নামে পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.