পুণের লোহাগড় দুর্গে ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডে নিত্যনতুন তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। গত ১৮ জুন লোণাবলার এই ঐতিহাসিক দুর্গের পাহাড়ের চূড়া থেকে ঠেলে ফেলে খুন করা হয় কেতনকে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে। তবে খুনের চূড়ান্ত ষড়যোজনার রহস্য উন্মোচন করতে এখন পুলিশের প্রধান ভরসা অভিযুক্তদের মোবাইল চ্যাট।
তদন্তকারীদের দাবি, খুনের আগে ও পরে সিয়া ও চেতনের মধ্যে হওয়া সমস্ত চ্যাট সুপরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে, এমনকি খালি করে দেওয়া হয়েছে ফোনের ‘রিসাইকেল বিন’-ও। এই ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করতে দুটি মোবাইলই ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
ছ’মাসে হাজারো ফোন কল, আড়ালে ৩ বছরের সম্পর্ক
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত চেতনের সঙ্গে সিয়ার গত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কেতন বা তাঁর পরিবারের কেউ এই বিষয়ে ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ধুমধাম করে কেতনের সঙ্গে সিয়ার বাগ্দান সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই অগ্রবাল পরিবারে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সিয়ার।
হত্যাকাণ্ডের পর সিয়ার কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখতে গিয়েই পুলিশ প্রথম চেতনের সন্ধান পায়। দেখা যায়, বিগত ছয় মাসে সিয়ার ফোন থেকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে কয়েক হাজার বার ফোন করা হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৮ জুনের ঘটনার আগে ও পরের সমস্ত চ্যাট ডিলিট করে দেওয়া দু’জনের অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহকে আরও জোরালো করছে।
ক্যাফেতে চূড়ান্ত রূপরেখা, পাহাড়ে মরণফাঁদ
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন পুণের একটি ক্যাফেতে দেখা করেছিলেন সিয়া ও চেতন। সেখানেই কেতনকে খুনের চূড়ান্ত নীলনকশা তৈরি হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী:
- সিয়া বেড়ানোর নাম করে কেতনকে নিয়ে পুণের লোহাগড় দুর্গে যান।
- তাঁদের অলক্ষ্যে পিছন পিছন অনুসরণ করতে থাকেন চেতন।
- পাহাড়ের একেবারে কিনারায় পৌঁছানো মাত্রই সুযোগ বুঝে কেতনকে গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধের কথা স্বীকার করলেও প্রথম পরিকল্পনাটি কার ছিল এবং কেতনকে ঠিক কে ধাক্কা মেরেছিল— এই নিয়ে সিয়া ও চেতনের জবানবন্দিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে।
ব্ল্যাকমেল নাকি টাকার লোভ? খতিয়ে দেখছে পুলিশ
জেরায় চেতন দাবি করেছেন, সিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তবে তদন্তকারীদের মনে অন্য সংশয় দানা বাঁধছে। প্রথমত, চেতন সিয়াকে তাঁদের সম্পর্ক ফাঁস করার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, তদন্তকারীদের অনুমান, প্রতিষ্ঠিত অগ্রবাল পরিবারের পুত্রবধূ হওয়ার পর সিয়ার মাধ্যমে পরবর্তীকালে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা চেতনের ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই আর্থিক যোগসূত্রের খোঁজে ইতিমধ্যেই সিয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, হাই-প্রোফাইল এই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের পক্ষে মামলাটি লড়তে পারেন ২৬/১১ মুম্বই হামলা মামলার দুঁদে সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম। প্রমাণের খোঁজে আপাতত ফরেনসিক ল্যাবের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুণে পুলিশ।

