নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ধর্মতলার বিক্ষোভ-কাণ্ডে ধৃতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মঙ্গলবার রাতে নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, আন্দোলনে শামিল পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার ‘দমনমূলক’ পদক্ষেপ করা হবে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা বহাল রেখে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিরা কোনও ছাড় পাবেন না।
উল্লেখ্য, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ধর্মতলার ওই অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতের নির্দেশের পরিবর্তন ও সুপ্রিম নির্দেশিকা
মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার মুখ্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে ধৃত ১৬ জনের জামিনের বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী। আদালত তাঁদের দু’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তবে একই দিনে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, দেশজুড়ে নিট আন্দোলনে যুক্ত থাকা নাবালক বা অপরাধের ইতিহাস নেই এমন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করা যাবে না এবং আটক বা গ্রেফতার থাকা নির্দোষদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার পর বিকেলে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে মুখ্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পুনরায় শুনানি হয়। দ্বিতীয় দফায় সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা না করায় আদালতের রায়ে বদল ঘটে এবং ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া শীর্ষ আদালত সমগ্র নিট কাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
দিল্লির যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তীতে বিহার, অসম, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত মিছিল থেকে হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হলে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে। তৎকালে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় সমঝোতা ও রাজ্যগুলির অবস্থান
বিতর্কের জল গড়ালে গত শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধৰ্মেন্দ্ৰ প্ৰধান পদত্যাগ করেন। এরপরই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের বৈঠক হয়। সেখানে আন্দোলনকারীদের সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং নিট বিপর্যয়ে প্রাণ হারানো পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের দাবি মেনে নেয় কেন্দ্র। সমঝোতার পর যন্তর মন্তরসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়।
তবে সোমবার সিজেপি নেতা সৌরভ দাস অভিযোগ তোলেন যে, কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি পূরণে বিলম্ব করছে। আন্দোলনের পুনরায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হলে রাতে কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ পাঠানো হবে।
এর পরপরই বিহার ও অসম সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার ঘোষণা করে। মঙ্গলবার রাতে রাজ্য সরকারও নবান্ন থেকে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল।

