চোখেমুখে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ, বসে যাওয়া চোখ আর শুষ্ক ত্বক— বলিউড সুপারস্টার সলমন খানের এমনই একটি ভিডিও সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তুমুল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের মনে। ৬০ বছর বয়সী এই অভিনেতার জেল্লা হারিয়ে ফেলা এবং আচমকা বুড়িয়ে যাওয়া চেহারা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— ভাইজান কি গুরুতর অসুস্থ, নাকি পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অভাবে তাঁর এই অবস্থা?
গত শুক্রবার রাতে মুম্বইয়ের ‘স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন অথরিটি’-র (SRA) দফতরের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন সলমন। সেখান থেকেই অভিনেতার এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়, যেখানে কথা বলার সময় তাঁকে কাশতেও দেখা যায়।
সলমনের এই শারীরিক পরিবর্তনের নেপথ্যে তাঁর অনিয়মিত জীবনযাত্রা ও অপর্যাপ্ত ঘুমকে অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। বছরখানেক আগে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সলমন নিজেই জানিয়েছিলেন তাঁর শোচনীয় ঘুম চক্রের কথা। তিনি বলেছিলেন, দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম তাঁর মাসে হয়তো মাত্র এক বার হয়। সাধারণত রাতে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক ঘুমোন তিনি এবং বাকিটা মেটান কাজের ফাঁকে সময় সুযোগ বুঝে।
বর্তমানে সলমন একসঙ্গে দুটি সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ‘মাতৃভূমি’ ছবির কাজ শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি দক্ষিণী তারকা নয়নতারার বিপরীতে আরও একটি সিনেমার শুটিং চলছে তাঁর, যা আগামী বছর ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে (নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি)।
সলমন খানের এই শারীরিক অবস্থা দেখে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পুষ্পিতা মণ্ডল জীবনযাত্রার মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, “বয়স বাড়ার ছাপ একেক জনের শরীরে একেক রকম গতিতে পড়ে। সলমন খানের চেহারা দেখে আন্দাজ করা যায়, তাঁর ক্ষেত্রে বার্ধক্যের ছাপ কিছুটা দ্রুত পড়েছে। এর নেপথ্যে জিনগত কারণের পাশাপাশি যাপনগত বা লাইফস্টাইলের ভূমিকা থাকতে পারে।”
চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম না হলে শরীরে ‘ফ্রি র্যাডিকাল’ তৈরি হয়, যা কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয় এবং ডিএনএ-র ক্ষতি করে। এর ফলে কোষের শক্তিঘর বা মাইটোকনড্রিয়ার কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং দ্রুত বার্ধক্য গ্রাস করে। শুধু তাই নয়, মস্তিষ্কের কোষের অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত সক্রিয়তার (নিউরোনাল হাইপারঅ্যাক্টিভিটি) কারণে দীর্ঘমেয়াদে ডিমেনশিয়ার মতো রোগও দেখা দিতে পারে। ঘুমের সময়েই মানবদেহ নিজেকে মেরামত করে, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পেশির পুনর্গঠন করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিপাকক্রিয়া নষ্ট হয় এবং ত্বক, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
সলমন খান কোনও নির্দিষ্ট রোগে ভুগছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, বয়স বাড়লেও শরীরকে দীর্ঘদিন সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার ভালো ঘুম, সুষম আহার, নিয়মিত শারীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

