দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে গত কয়েক দিন ধরে চলা অসহ্য গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থেকে রাজ্যবাসী রেহাই পেতে চলেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্ত থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি:
- শনিবার থেকে বদল: শনিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখী শুরুর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
- সতর্কতা: উত্তর ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে পশ্চিমের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি গরমের অস্বস্তিও বজায় থাকবে।
- রবিবার থেকে তীব্রতা: রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবার নদিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও দুই বর্ধমানে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। ওই এলাকায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা ও বাকি জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
- ভোটের দিনে আবহাওয়া: আগামী বুধবার, ২৯ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গে ১৪২টি আসনে ভোট রয়েছে। সেই দিনও আকাশ মেঘলা এবং বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য নির্দেশ: সমুদ্রে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সেই কারণে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
তাপমাত্রার পূর্বাভাস: আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত থাকায় বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে। এর প্রভাবেই ঝড়বৃষ্টির এই অনুকূল পরিস্থিতি। আগামী দুই দিন তাপমাত্রায় তেমন হেরফের না হলেও, তার পরবর্তী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি: উত্তরবঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রয়েছে। শনি ও রবিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতেও ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড় বইতে পারে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।
আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি ফিরবে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।

