কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ীদের সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর, গ্লাসগো সফর শেষে অ্যাথলিটদের পাশে দাঁড়ানোর পরিসংখ্যান প্রকাশ কেন্দ্রের

কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ীদের সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর, গ্লাসগো সফর শেষে অ্যাথলিটদের পাশে দাঁড়ানোর পরিসংখ্যান প্রকাশ কেন্দ্রের

অলিম্পিক ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এ বার গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে সাফল্য অর্জনকারী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সম্মানিত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ৩৯টি পদকজয়ী ভারতীয় দলের অ্যাথলিট ও ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (IOA) সভাপতি পিটি ঊষাসহ অন্য কর্মকর্তাদের স্বাগত জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে নীরজ চোপড়া, মীরাবাই চানু, লভলিনা বরগোহাঁই, অস্মিতা দে এবং সাক্ষী চৌধরীর মতো তারকা অ্যাথলিটদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খেলোয়াড়দের সংগ্রামের গল্প শোনার পর তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান তিনি। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাথলিটদের সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “জো খেলেগা, উয়ো খিলেগা” (যারা খেলবে, তারাই সফল হবে)।

প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে আপ্লুত ক্রীড়াবিদেরা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে উচ্ছ্বসিত গেমসে সোনাজয়ী বক্সার সাক্ষী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আমন্ত্রণ পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও মাটির মানুষ। অ্যাথলিটদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তিনি যে মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করতে সাহায্য করবে।”

ইভেন্ট ছাঁটাই সত্ত্বেও সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা এ বারের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জয় করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। গত আসরে ভারতীয় দল ৬১টি পদক পেলেও এ বার পদকের সংখ্যা কমার পেছনে একাধিক ইভেন্ট ছাঁটাইকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজন ব্যয় কমাতে আয়োজকেরা ব্যাডমিন্টন, কুস্তি, শুটিং, টেবিল টেনিস ও হকি বাদ দিয়েছিল— যে ক্ষেত্রগুলি থেকে ঐতিহাসিকভাবে ভারত প্রচুর পদক পেয়ে থাকে।

তা সত্ত্বেও বিভিন্ন বিভাগে ভারতীয় অ্যাথলিটরা নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন:

  • বক্সিং ও অ্যাথলেটিকস: বক্সার এবং অ্যাথলিটরা যথাক্রমে ১০টি করে পদক নিশ্চিত করেছেন।
  • ভারোত্তোলন: ভারোত্তোলকেরা জিতেছেন ৮টি পদক।
  • প্যারা অ্যাথলেটিকস: প্যারা অ্যাথলিটদের ঝুলিতে এসেছে ৬টি পদক।
  • ব্যক্তিগত সাফল্য: গুলবীর সিংহ ১০,০০০ মিটার দৌড়ে রুপো এবং ৫,০০০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছেন।

ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুতিতে কেন্দ্রের আর্থিক সাহায্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের নেপথ্যে অ্যাথলিটদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’ (TOPS) ও বিভিন্ন অনুদানের বড় ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্লাসগো গেমসে অংশ নেওয়া ৩৮ জন পদকজয়ীর পেছনে সরকার সরাসরি বিভিন্ন ধাপে অর্থ প্রদান করেছে।

  • নীরজ চোপড়া: প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল সর্বাধিক ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৩ টাকা।
  • মীরাবাই চানু: সব মিলিয়ে পেয়েছেন ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৯ টাকা।
  • লভলিনা বরগোহাঁই: তাঁর অনুশীলনে খরচ হয়েছে ৯৫ লাখ টাকারও বেশি।
  • গুলবীর সিংহ: গত চার বছরে প্রস্তুতি বাবদ ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং প্রতিযোগিতা কেন্দ্রিক খরচে ২৫ লাখ ৩২ হাজার টাকাসহ মোট ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা পেয়েছেন।
  • অস্মিতা দে: জুডোকা অস্মিতা পেয়েছেন ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২০৪ টাকা।
  • শিল্পা শৈল: অ্যাথলিট শিল্পা শৈল সর্বনিম্ন ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৮ টাকার সরকারি অনুদান পেয়েছেন।

পদক পিছু কেন্দ্রের বিনিয়োগ সর্বভারতীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, গ্লাসগোতে সাফল্য পাওয়া ৩৮ জন অ্যাথলিটের সার্বিক অনুশীলনের পেছনে মোট ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়া পুরো ভারতীয় দলের প্রস্তুতি বাবদ কেন্দ্রীয় সরকার মোট ৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। হিসাব অনুযায়ী, অর্জিত ৩৯টি পদকের নিরিখে প্রতিটি পদকের পেছনে সরকারের গড়ে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে কেবল সফল ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতির খরচ হিসাব করলে পদক পিছু অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪৪ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.