সাশ্রয়ী হবে ক্রিকেট
নতুন নিয়মের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ল্যামিনেটেড ব্যাটের (একাধিক স্তরের কাঠ দিয়ে তৈরি) অনুমোদন। আগে এটি কেবল জুনিয়র ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন থেকে সব ধরনের অপেশাদার ক্রিকেটে এই ব্যাট ব্যবহার করা যাবে। ইংলিশ উইলোর ক্রমবর্ধমান সংকট এবং উচ্চমূল্যের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। এমসিসি-র প্রতিনিধি ফ্রেজার স্টুয়ার্ট জানিয়েছেন, পারফরম্যান্সে বড় কোনো হেরফের না ঘটিয়েই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে খেলাটিকে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
খেলার মাঠে যে ১০টি প্রধান নিয়ম বদলাচ্ছে
১. দিনের শেষ ওভার: আগে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে অনেক সময় খেলা ওখানেই শেষ করে দেওয়া হতো। নতুন নিয়মে উইকেট পড়লেও ওভারটি সম্পূর্ণ করতে হবে। ২. ‘বানি হপ’ ক্যাচ: বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থেকে লাফিয়ে ক্যাচ নেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হয়েছে। ফিল্ডারকে বাউন্ডারির বাইরে থেকে এসে শূন্যে থাকা অবস্থায় কেবল একবারই বল স্পর্শ করার অনুমতি দেওয়া হবে। ক্যাচটি সম্পূর্ণ করার সময় ফিল্ডারকে অবশ্যই বাউন্ডারি লাইনের ভেতরে থাকতে হবে। ৩. উইকেটরক্ষকের দস্তানা: বোলার রান-আপ শুরু করার সময় কিপারের দস্তানা স্টাম্পের সামনে থাকতে পারে, কিন্তু বোলার বল ছাড়ার মুহূর্তে দস্তানা অবশ্যই স্টাম্পের পেছনে থাকতে হবে। ৪. শর্ট রান ও শাস্তি: ইচ্ছাকৃত শর্ট রান নিলে ৫ রান জরিমানার পাশাপাশি পরবর্তী বলটি কোন ব্যাটার খেলবেন, তা নির্ধারণ করবে ফিল্ডিং দল। ৫. হিট উইকেট: ভারসাম্য হারিয়ে স্টাম্পে পড়ে গেলে আউট দেওয়া হবে। তবে কোনো ফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বা ব্যাটারের কোনো সরঞ্জাম ফিল্ডারের গায়ে লেগে স্টাম্পে পড়লে আউট হবে না। ৬. ‘ডেড’ বল: বল বোলার বা কিপারের হাতে গেলেই যে ডেড হবে এমন নয়। কোনো ফিল্ডারের হাতে থাকা অবস্থায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ঘোষণা করতে পারবেন। ৭. ওভার থ্রো: কেবল সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে উইকেট লক্ষ্য করে বল ছুড়লে তাকে ওভার থ্রো ধরা হবে। সাধারণ মিস ফিল্ডিংকে আর এই তালিকায় রাখা হবে না। ৮. ডিক্লারেশন: ম্যাচের শেষ ইনিংসে কোনো অধিনায়ক আর ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা বা ডিক্লেয়ার করতে পারবেন না। ৯. লিঙ্গ নিরপেক্ষ ভাষা: ক্রিকেটে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে ‘ব্যাটসম্যান’ শব্দটির পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে কেবল ‘ব্যাটার’ শব্দটি ব্যবহৃত হবে। ১০. অপেশাদার ক্রিকেটে সহজলভ্যতা: আইনের ৪২টি ধারায় ছোটখাটো অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে খেলাটি অপেশাদারদের কাছে আরও সহজ হয়।
এমসিসি-র এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ আধুনিক ক্রিকেটের গতিশীলতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকরণকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

