বর্তমানে পাসপোর্ট নবীকরণ বা ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের (এসআইআর) জন্য ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র বাধ্যতামূলক। নাগরিকদের সুবিধার জন্য কলকাতা পুরসভা ‘চ্যাটবট’ পরিষেবা চালু করলেও, অভিযোগ উঠছে যে সাধারণ মানুষ সহজে স্লট পাচ্ছেন না। নথিপত্র জমা দিতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের এই অসহায়তাকে পুঁজি করেই পুরসভার এক শ্রেণির কর্মী ও বহিরাগত দালালরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দ্রুত শংসাপত্র পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে তারা মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ।
সাংসদ ও আধিকারিকদের আত্মীয়ও লক্ষ্যবস্তু
এই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা স্পষ্ট হয়েছে কয়েকটি ঘটনায়। পুরসভার চেয়ারপার্সন তথা তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে দ্রুত শংসাপত্রের বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি সাংসদ জানতে পেরে ওই ব্যক্তিকে সহায়তা করেন এবং ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, এই চক্র বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনুরূপভাবে, পুরসভারই এক পদস্থ আধিকারিকের আত্মীয়ের কাছে ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। এমনকি বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেককে হয়রান করে টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ। এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ যদি শংসাপত্র ইস্যু করে বা ঘুরপথে কাজ করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের আবেদন জানানো হয়েছে যাতে তাঁরা দালালদের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি সরকারি চ্যাটবট সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করেন।
এক নজরে অভিযোগের মূল দিকগুলো:
- চাহিদা: ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ডিজিটাল সার্টিফিকেটের ব্যাপক চাহিদা।
- অনিয়ম: সার্টিফিকেট পিছু ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি।
- কারচুপি: চ্যাটবটের স্লট না পাওয়ার সুযোগ নিয়ে দালালদের সক্রিয়তা।
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই কারচুপি নিয়ে পুর কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন।

