তাম্রলিপ্তের কুতুবপুর রাজ্যের মাহিষ্য ক্ষত্রিয় সেনাপতি অমরকেতু চণ্ডভীম
সমগ্র রাঢ়ে যখন ভীষণ বর্গী অত্যাচার চলছে এবং বাঙ্গালী হিন্দু নৃপতিরা সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের প্রতিহত করছেন, সেই সময় সেনাপতি চণ্ডভীম এর ভয়ে বর্গীরা কুতুবপুর আক্রমণের সাহস করেনি
কুতুবপুর রাজবংশর প্রধান সেনাপতি ছিলেন – ‘ অমরকেতু দেব(জানা)’ , তিনি জন্মগত ভাবে ছিলেন মাহিষ্যক্ষত্রিয় গজপতি/দেব(জানা) বংশের ২৫ তম উওরপুরুষ।
সেনাপতি আমরকেতু শতাধিক যুদ্ধে জয়লাভ করিলে, পুরীর রাজার আদেশে একটি মত্ত হাতির শুঁড় ধরে তাকে মাটিতে অনায়াসে শুইয়ে দিয়ে নিজ দেহ বলের স্বীয় বীরত্ব প্রমাণ করেন,
পুরী রাজ অমরকেতু র অসাধারণ ক্ষমতার নমুনা দেখে তাকে মাল্য, বকশিশ দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করেন এবং’ চন্ডভীম ‘ উপাধি প্রদান করেছিলেন।
কুতুবপুর রাজ এর অন্যতম সেনাপতি ছিলেন অমরকেতু, তার অধীনে ৫০ হাজার পদাতিক, ২ হাজার অশ্বারোহী, ৫ শত হস্তী ও বহু বরকন্দাজ ছিল। এই বীর এর শক্তির প্রভাবে কুতুবপুর রাজ্য অসীম পরাক্রমশালী তো হয়েই ছিল অধিকন্তু নিরুপদ্রবে সুসাশিতও হত।
অমরকেতুর দৈহিক বল এতটাই অধিক ছিল যে তিনি – বনের হিংস্র বাঘকে মুঠোর আঘাতে মারতে পারতেন, ১৫ মণ ওজনের পাথর একলা বহন করতে পারতেন, আধ মণ ওজনের দুটি তলোয়ার নিয়ে দুই হাতে যুদ্ধ করতে পারতেন ।
অজস্র পাঠান ও বর্গী কে মেরে উজাড় করেছিলেন তিনি। বঙ্গে বর্গী ও যবন হানা শুরু হলে সম্পূর্ন বঙ্গ তে তার প্রভাব পড়লেও অমরকেতুর বীরত্বে কুতুবপুর রাজ্য ছিল ব্যতিক্রম।
তথ্যঋণ: মাহিষ্য ক্ষত্রিয় ,
সৌম্যদীপ ব্যানার্জী
তথ্যসূত্র:তাম্রলিপ্তের ইতিহাস যুধিষ্ঠির জানা, মাহিষ্য কুলপঞ্জীকা
সৌজন্যে:মাহিষ্য ক্ষত্রিয় পেজ