সংবাদপত্রের দর্পণে ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯- যখন পশ্চিমবঙ্গ হয়েছিল পাকিস্তান― পর্ব ৩ 13th to 15th December, 2019 in the light of the Newspaper Reports -When West Bengal Became Pakistan ― Part 3

পর্ব ৩

এবার আসা যাক মুর্শিদাবাদে। ১৪ ডিসেম্বরে মুর্শিদাবাদ একেবারে ইসলামী মুক্তাঞ্চল। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে কি হবে তার ছবি। রেল যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের ফলে আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠল রেলের সম্পত্তি। ১৪ই ডিসেম্বরের সারাদিনের এই ইসলামী হিংসার বর্ণনা দিয়েছে সংবাদ প্রতিদিন ( ১৫ ডিসেম্বর ২০২০)। লিখেছে – “পরপর পাঁচ ট্রেনে আগুন – প্রথম কামরা থেকে শেষ কামরা। স্টেশনে দাঁড়ানো আস্ত দু’টো ট্রেন দাউদাউ জ্বলছে। চারপাশে রেলসম্পত্তির ধ্বংসস্তূপ, ত্রস্ত যাত্রীদের আর্তনাদে বাতাস ভারী। তারই মাঝে ভেসে আসছে উন্মত্ত হামলাকারীদের হুঙ্কার। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-র প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের কিছু জায়গায় যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে শনিবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদের কৃষ্ণপুর স্টেশনের ছবি তারই একটা প্রতীক। হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা, রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শুক্রবারের মতো এদিনও বেনজির প্রতিবাদ বিক্ষোভের আঁচে পুড়ে খাক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিবাদ আন্দোলন পর্যবসিত সাদাসাপটা গুন্ডামিতে। জ্বলন্ত টায়ার ফেলে সড়ক অবরোধ করে গাড়ি, বাস জ্বালানো হয়েছে, মাঝপথে যাত্রীদের জবরদস্তি নামিয়ে দিয়ে, রেললাইন আটকে ট্রেন থামিয়ে তুঙ্গে তোলা হয়েছে আমজনতার দুর্ভোগ”।

“সিএএ-র বিরুদ্ধে ক্ষোভের আঁচ শুক্রবারই লেগে গিয়েছে বাংলায়। হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪ পরগনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তান্ডবের পর এ দিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে নতুন উদ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের লেলিহান শিখা। মুর্শিদাবাদের ছবিটাই মারাত্মক। বিকেল চারটে নাগাদ লালগোলা স্টেশনে প্রথমে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এরপর দেড় কিলোমিটার দূরে কৃষ্ণপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা দু’টি ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গোটা ট্রেনটি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। তবে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার ওই ট্রেনটি ফাঁকাই ছিল। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বেলডাঙা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের তিনটি বগিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দমকলের ইঞ্জিন আগুন নেভাতে গেলে সেটিকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর, বেলডাঙা, লালগোলা, ডোমকল, সুতি, সামশেরগঞ্জ, সাগরদিঘি, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর, ফারাক্কায় দিনভর দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়েছে। ট্রেন অবরোধ, জাতীয় ও রাজ্য সড়ক অবরোধ, সরকারি সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া, ভাঙচুর – সব ঘটনাই ঘটেছে। লালগোলা বাজারে পুড়িয়ে দেওয়া পিডব্লুডি অফিস, বাসস্ট্যান্ড, পোস্ট আফিস। ৩৪ নিম্বর জাতীয় সড়কে শনিবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বিক্ষোভ অবরুদ্ধ হয়েছে জনজীবন। লালগোলা, কৃষ্ণপুর, বেলডাঙা, পোড়াডাঙা, নিমতিতা, ধুলিয়ানা, বাসুদেবপুর-সহ মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক স্টেশন ভস্মীভূত। পোড়াডাঙা স্টেশনে শাবল দিয়ে রেললাইন উপড়েও দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সামশেরগঞ্জ থানা ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠেছে। এককথায় ঘটনাবহুল মুর্শিদাবাদ। ইসলামপুরে রানিনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বাড়িতে ইটবৃষ্টি হয়। গাড়ি, মোটরবাইক জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তঘেঁষা মুর্শিদাবাদ যেমন উত্তপ্ত হয়েছে, তেমনই কলকাতা লাগোয়া হাওড়া তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে। ঘটনাবহুল এই জেলা। বাউড়িয়া, সাঁকরাইল, উলুবেড়িয়া স্টেশনে বিক্ষোভ, ভাঙচুর হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় সাঁকরাইলের টিকিট কাউন্টারে। ভাঙচুর চলে ইস্ট কেবিন, স্টেশন ম্যানেজারের ঘর, প্যানেল রুমে এই স্টেশনে লাইনের উপর টায়ার জ্বালিয়ে সিএএ-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ট্রেন চলাচল। যার প্রভাব গিয়ে পড়ে মুম্বাই রোডে। কিন্তু মুম্বাই রোডের একাধিক জায়গায় অবরোধের জেরে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। উলুবেড়িয়া, বাগনান, শ্যামপুর-সহ হাওড়ার জেলার একাধিক এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে। সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হটাতে গেলে জনতা-পুলিশে খন্ডযুদ্ধ বেধে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য ইট ছোড়া হয়। আহত হন হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিক ও কর্মীরা। পুলিশ লাঠি চার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে সাতটি সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয় পুলিশকে। অভিযোগ, রবার বুলেটও ছোড়া হয়। রেল অবরোধের হাওড়া শাখায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। উত্তর ২৪ পরগনার শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখায় এদিন দিনভর অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। অবরোধ, বিক্ষোভের জেরে সারাদিনই ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের আমডাঙাতেও দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়। সন্ধ্যায় দত্তপুকুরের সন্তোষপুরে একটি দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় কড়াইয়ের গরম তেল আন্দোলনকারীদের গায়ে ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন। যার পরই বিক্ষোভকারীরা মারমুখী হয়ে ভাঙচুর চালায় সংলগ্ন এলাকার স দোকানে। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অশান্তির জেরে সীমান্তের বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। এছাড়াও মালদহ জেলার হরিশচন্দ্র স্টেশনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটে আহত হয়েছেন যাত্রী থেকে পুলিশ কর্মী। বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়াতে বিক্ষোভের একই চিত্র”। (সংবাদ প্রতিদিন ১৫ ডিসেম্বর ২০২০)।
একবার ভালো করে আবার পড়ুন – “আস্ত দু’টো ট্রেন দাউদাউ জ্বলছে। চারপাশে রেলসম্পত্তির ধ্বংসস্তূপ, ত্রস্ত যাত্রীদের আর্তনাদে বাতাস ভারী। তারই মাঝে ভেসে আসছে উন্মত্ত হামলাকারীদের হুঙ্কার”।


ভাবুন, আপনি কোথায় বাস করেন যেখানে ইসলামী জনতা বিনা বাধায় এই বীভৎস ছবি তৈরী করতে পারে। একই ভারত না পাকিস্তান? আরো একবার পড়ুন – “বেলডাঙা স্টেশনে দাঁডিয়ে থাকা ট্রেনের তিনটি বগিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দমকলের ইঞ্জিন আগুন নেভাতে গেলে সেটিকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়”। একের পর এক জ্বলছে রেল স্টেশন – “লালগোলা, কৃষ্ণপুর, বেলডাঙা, পোড়াডাঙা, নিমতিতা, ধুলিয়ান, বাসুদেবপুর-সহ মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক স্টেশন ভস্মীভূত। পোড়াডাঙা স্টেশনে শাবল দিয়ে রেললাইন উপড়েও দিয়েছে আন্দোলনকারীরা”।

এতো কোন যুদ্ধক্ষেত্রের বর্ণনা । কারা এই যুদ্ধ করতে নেমেছে, কাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ? খুব স্পষ্ট করে আজ তা বোঝবার সময় এসেছে। ইসলামী জনতা কেন এই যুদ্ধে নেমেছে আর কেনই বা রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন নীরব হয়ে রয়েছে।
“In unprecedented violence, anti-CAB agitators set fire to several trains which were parked at the loco-shed at Krishnapur railway station, the penultimate station located close to Lalgola, the terminal station in Sealdah-Lalgola sections. At Beldanga railway station, protesters who set the station ablaze yesterday, were allowed to carry on with their dance of destruction today”. (The Statesman, 15 December 2019).


ভালো করে পড়ুন – মুর্শিদাবাদের ইসলামী জনতা কৃষ্ণপুর রেলওয়ে স্টেশনের সাইডিং য়ে লোকো শেডে রাখা তিনটি ট্রেনকে এসে জ্বালিয়ে দেয়। এটা কি কোন রাজনৈতিক বিক্ষোভে সম্ভব? আগেরদিন বেলডাঙ্গা স্টেশন জ্বালানো হয়েছিল, পরদিন আবার সেই দাঙ্গাকারীরা বিনা বাধায় ইচ্ছেমতন সেখানে রেলের সম্পত্তি ধ্বংসে মেতেছে। দি স্টেটসম্যান (১৫ ডিসেম্বর ২০১৯) আরো লিখছে – “The fire engine that arrived at Beldanga from Behrampore was set on fire while the fire fighters saved themselves by taking shelter at Beldanga police station, said fire officials here. Three vehicles were lying charred inside the Beldanga-I BDO office ground, that was vandalized yesterday”. যাঁরা বেলডাঙ্গায় আগুন নেভাতে এসেছিল সেই দমকল কর্মীরা কোনমতে প্রাণ হাতে করে পালিয়ে আশ্রয় নেন পুলিশ স্টেশনে। আগুন নেভানোর গাড়ী পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি রেল পুলিশের বাসস্থানও পুড়িয়ে দিয়েছে ইসলামী দাঙ্গাকারীরা । “ “The iron cots of the GRP personnel at Beldanga were charred as the attackers went upstairs and set fire to the first floor of the building yesterday. “God saved my life. I managed to escape”, said Mr. Priyanath Haldar, a GRP personnel. He said he hid inside a political party office”. (The Statesman, 15 December 2019).
বেলডাঙ্গা স্টেশনের রেল পুলিশের বাসস্থান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রেল পুলিশের প্রিয়নাথ হালদার বলছেন – ‘ভগবান সেদিন আমায় রক্ষা করেছে। আমি পালিয়ে বেঁচেছি’। কিন্তু আর কতদিন এভাবে পালিয়ে বাঁচবে পশ্চিমবাংলার হিন্দু?
১৪ই ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে এই জেহাদী হিংসার একটি তালিকা পেশ করেছে দি টেলিগ্রাফ পত্রিকা। সেখান থেকে পূর্বে আলোচিত স্থানগুলি বাদ দিয়ে অন্য স্থানগুলির অবস্থা জেনে নেওয়া যাক।
নিমতিতা, মুর্শিদাবাদ জেলা – জেহাদী জনতা নিমতিতা স্টেশনটি সকালবেলায় আক্রমণ করে। স্টেশন মাস্টারের অফিস ও টিকিট কাউন্টার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এরপর জনতা রেল লাইনে বসে থেকে রেল চলাচল বন্ধ করে দেয়।
সরগাছি, মুর্শিদাবাদ জেলা –সরগাছি স্টেশনে ব্যাপক ধবংসাতবক আক্রমণ চালানো হয়। স্টেশন মাস্টারের অফিস ও টিকিট কাউন্টার জ্বালিয়ে একেবারে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।


সুতি, মুর্শিদাবাদ জেলা – তিনটি সরকারি বাসে আগুন লাগানো হয়। তারপর জাতীয় সড়ক ১২ অবরোধ করা হয়।
সামশেরগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ জেলা – জেহাদী জনতা সামশেরগঞ্জ পুলিশ থানা আক্রমণ করে ও থানার ভিতরে পাথর ছুঁড়তে থাকে।
মুরারই, বীরভূম জেলা – প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ মুরারই স্টেশনের কাছে রেল লাইনে বসে থেকে রেল চলাচল বন্ধ করে দেয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়।
সোদালিয়া-লেবুতলা, উঃ ২৪ পরগণা – বারাসত – হাসনাবাদ লাইনে সোদালিয়া-লেবুতলা স্টেশনে রেল অবরোধ করা হয়, ট্রেনে পাথর ছোঁড়া হয় ও স্টেশন অফিসে ভাঙচুর করা হয়। জাতীয় সড়ক ১২ বন্ধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বাংলাদেশে আমদানী রফতানীর প্রায় ৫০০ ট্রাক আটকে রাখা হয়। এইসব ট্রাকে অনেক পচনশীল জিনিস থাকে যা বেশী দেরী হলে নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে।
হরিশচন্দ্রপুর, মালদহ জেলা – কয়েকশ জেহাদী যুবকের সঙ্গে কিশোররাও হরিশচন্দ্রপুর রেল স্টেশন আক্রমণ করে প্ল্যাটফর্মের চেয়ার, টিকিট বুকিং কাউন্টার, সব কম্পিউটার ইত্যাদি ধ্বংস করে। রেলকরমীদের দিকে পাথর ছোঁড়া হয়। এই দাঙ্গাকারীরা মালদা – কাটিহার প্যাসেঞ্জার ট্রেন অবরোধ করে ও যাত্রীদের ভীতি প্রদর্শন করে।
কালিয়াচক, মালদহ জেলা – ইসলামী সন্ত্রাসবাদের জন্য কালিয়াচক পরিচিত নাম। কলেজ ছাত্ররা ও স্থানীয় জনতা পথ অবরোধ করে। (দি টেলিগ্রাফ, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯)
শনিবার জুড়ে এই ঘটনার সারাংশ দিয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া (১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯) – “Buses, trains, stations torched as stir over new law turns into vandalism – Violent agitations over the Citizenship Amendment Act rocked parts of Bengal on Saturday with four districts – Murshidabad, Howrah, Maldah and North 24 Parganas – emerging as flashpoints where protesters torched at least 17 buses, five empty trains, fire engines and police vehicles, vandalized half a dozen rail stations, hurled stoneds at passing vehicles and fought a pitched battle with police. In Murshidabad’s Jangipur, there were reports of protesters using children as human shields.”

একেবারে যুদ্ধ চলছে তাতে নামানো হয়েছে শিশুদের। শুধু জঙ্গীপুরে নয়, এই মুসলিম শিশুকিশোরেরা পাথর ছোঁড়া থেকে আগুন লাগানো, সব কিছুতেই হাত পাকিয়েছে বিভিন্ন স্থানে। পুলিশ কিছুই করেনি, গুলি চালানোতো দূরের কথা। ফলে পুলিশের লাঠি বা কোন আক্রমণে দাঙ্গাবাজদের কোন হতাহতের কোন খবর নেই। আসলে মুখ্যমন্ত্রী থেকে স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবিকুল – কারো বক্তব্যে কোন জোর ছিল না। মামুলী শান্তির আহ্বান, আইন হাতে না নেওয়ার মিনতি আর পরে শাস্তির দুর্বল হুমকি। ফলে এই জেহাদী দাঙ্গাবাজেরা জানে পুলিশ এই রাজ্যের পুলিশ তাদের কিছু করবে না। যখন বিখ্যাত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত করতে মধ্য কলকাতায় সারা দিন ধরে ইসলামী মৌলবাদীরা আগুন জ্বালিয়েছিল, বা দেগঙ্গায় জেহাদী জনতা হিন্দু বাড়ীঘর ভাঙচুর করছিল তখন কমুনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পুলিশ কিছুই করেনি। তারপর তৃণমূলের জমানায় কালিয়াচকে ইসলামী জনতার পুলিশ ফাঁড়ী পোড়ান থেকে, ধুলাগড় বা রাজাবাজার ট্রাম ডিপোতে ৪৬টি বাস, ১১টি গাড়ি ও ২টি ট্রাম জ্বালানো ইত্যাদি ইত্যাদি – কোথাও পুলিশ বিশেষ কিছুই করে নি। ফলে শুক্রবারের জেহাদী জনতা এত হিংসাত্মক কাণ্ড করেও শনিবার নিশ্চিন্তে নেমেছিল আরো হিংসা ছড়াতে, পশ্চিমবঙ্গকে দেখিয়ে দিতে আসলে রাজ্যটা কারা চালায়। ফলে এরপর তাঁরা রবিবারটাই বা বাদ দেবে কেন?

১৫ ডিসেম্বর, রবিবার
সাংবাদপত্রে, টেলিভিশনে এতসব মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, উপদেশের পরও, পরদিন রবিবার, তৃতীয় দিনও জেহাদী জনতা পথে নামল পশ্চিমবঙ্গ ধ্বংসের বাকী কাজ শেষ করতে। সংবাদ প্রতিদিন (১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯) লিখছে – “রবিবার মহানগর শান্ত থাকলেও লাগোয়া এলাকা এবং জেলাগুলিতে তান্ডব চলেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং, পুজালি, আকড়া, মহেশতলায় লাঠি, রড, অস্ত্র হাতে দাপায় কিছু মানুষ। ডায়মন্ড হারবার ও বজবজ লাইনের রেল পরিষেবা দীর্ঘক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। বজবজের আকড়া স্টেশনে আগুন দেয়। যাত্রীদের উপর হামলা করে। দু’টি ট্রেন ভাঙা হয়। পুলিশ আক্রান্ত হয়। সড়ক অবরোধে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কুলপি, নামখানা, কাকদ্বীপ। …… মালদহের ভালুকা স্টেশনে হামলা করে কয়েকশো সশস্ত্র দুস্কৃতী। স্টেশনে যথেচ্ছ ভাঙচুরের পর পেট্রোল ঢেলে স্টেশন মাস্টারের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। কর্মীরা আতঙ্কে পালিয়ে যান। রেল পুলিশ অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। শনিবার একইভাবে তান্ডব চালানো হয়েছিল এখানকার হরিশচন্দ্রপুর স্টেশনে। রবিবার মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকা ছিল অগ্নিগর্ভ। সড়ক ও রেল পরিষেবা পুরোটাই প্রায় বন্ধ হয়ে যায় উন্মত্ত জনতার তান্ডবে। কায়দা সেই একই – টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক আটকে রাখা। ফারাক্কা, জঙ্গীপুর, কাটোয়া রুটে রেল অবরোধ হয়। ভাঙচুর হয় ১১টি সরকারি বাস। সাগরদিঘি, শেখদিঘি, নাওদা, রঘুনাথগঞ্জ সব জায়গায় জ্বলেছে ক্ষোভের আগুন। বর্ধমানে বিজেপি অফিসে ঢুকে হামলা চালায় কিছু মানুষ। বেশ কিছু এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। মিশ্র এলাকার তপ্ত পরিস্থিতি সামলাতে নামে বাড়তি বাহিনী। বীরভূমের ময়ুরেশ্বরে কোটাসুরে ভাঙচুর হয় বিজেপি অফিস। সেখানে বেশ কিছু বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় নাগরিকত্ব আইন অমান্যকারীরা। আবার কাঁটাগড়িয়ায় তৃণমূলের সভামঞ্চ ভেঙে ফেলা হয়েছে। মার খেয়েচ্ছেন শাসক দলের নেতা।
বাঁকুড়ার জয়পুর জ্বলেছে। সেখানেও বিজেপি দফতরে আগুন দেওয়া হয়। বিষ্ণুপুর-কোতুলপুর সড়ক অবরোধ হয়। অভিযোগ, জয়পুর মোড়ে শাসকদলের মিছিল থেকে হামলা চলে কিছু দোকানে। রাস্তায় টায়ারে আগুন দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের মারধর করা হয়। উত্তর ২৪ পরগণাও ছিল তপ্ত। আমডাঙায় অবরোধ চলছে তিনদিন ধরে। সেখানে কামদেবপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধকারীরা একেবারে রান্না করে দু’বেলা খাওয়া দাওয়া সারছেন। বহরমপুর বা উত্তরবঙ্গগামী কোনও বাস যেতে পারছে না। দেগঙ্গায় অবরোধের সময় গন্ডগোল হয়। বারাসাতেও অবরোধের সময় বিজেপি অফিস ভাঙচুর হয়। পাল্টা অবরোধ করে বিজেপি। সবমিলিয়ে রাজ্যের অশান্তির ছবিটা একই। আর আতঙ্কের ছবি প্রকট হচ্ছে আরও”। সংবাদ প্রতিদিন (১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯)

অর্থাৎ জেহাদীদের হাতে তিনদিন বন্দী রইলো পশ্চিমবঙ্গ। একটি সংসদীয় বিষয়ের প্রতিবাদের চেহারা – “দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং, পুজালি, আকড়া, মহেশতলায় লাঠি, রড, অস্ত্র হাতে দাপায় কিছু মানুষ”। কিন্তু অবস্থা আরো ভয়ংকর । এই সময় (১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯) জানাচ্ছে – “এদিন ভালুকা স্টেশনে হামলার লক্ষ্যণীয় দিক হল, প্রথমে জাতীয় পতাকা নিয়ে ছোট ছোট মিছিল ভালুকা রোড স্টেশনের সামনে জড়ো হয়। জমায়েত বড় আকার নিতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে দুস্কৃতীরা। টিকিট কাউন্টার, স্টেশন ম্যানেজারের ঘরে আগুন দেওয়ার পরে জনতা রেললাইনের উপরে দাঁড়িয়ে পড়ে। সেখানে টায়ারও জ্বালানো হয়”।
এই এক নতুন কৌশল এবং জাতীয় পতাকার অবমাননা। আগেই বলেছি যে সামনে কোন দলীয় বা সংগঠনের পতাকা নেই, লিফলেট নেই, কোন নেতা নেই – অথচ একেবারে যুদ্ধকালীন পরিকল্পনায় চলছে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ। জাতীয় পতাকা ও শিশু-কিশোরদের ব্যবহার। এই জেহাদে কোন মহিলাদের দেখা যায় নি, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের এই সাফল্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আর কয়েকদিন পর ভারত জুড়ে যে জেহাদ শুরু হবে তাতে পরিকল্পনা মাফিক প্রাথমিকভাবে কেবলমাত্র মহিলাদেরই ব্যবহার করা হবে – শাহীনবাগ থেকে পার্‌ক সার্কাস।
এই জেহাদী পরিকল্পনা শুধু রেল স্টেশনে আগুন লাগানো নয়, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ হল উত্তর দক্ষিণ রেল যোগাযোগ। এই সময় (১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯) তাই শিরোনামে লিখেছে – “বিচ্ছিন্ন উত্তর”। জেহাদীরা এই যোগাযোগকেই অচল করে তাদের আগামী দিনের লড়কে লেঙ্গে পশ্চিম বঙ্গালের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রাখলো।
এই জেহাদী আক্রমণ কিছু দুষ্কৃতিকারীর কাজ নয়, এতে যুক্ত হয়েছে একটি জেহাদী সমাজ – টাইমস অফ ইন্ডিয়া (১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯) লিখছে – “Around 11.30am, a mob of around 15,000 – chanting anti-CAA slogans – gathered outside Bhaluka Road station in Malda. They ransacked the ticket counter and set it on fire. They then ransacked the station master’s room. The station master managed to escape, but some railway men were assaulted”. পনের হাজার লোক মিছিল করে এসে স্টেশনে আগুন লাগাচ্ছে। কোথাও এতে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস জড়িত হয়ে পড়ছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া (১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯) লিখছে – At Karandighi, North Dinajpur, a Trinamool procession came out in protest of CAA and NRC around 11am. Some from the procession came out to attack buses on the road. At least five buses were set on fire.
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯) রাজ্য জুড়ে এই জেহাদী তাণ্ডবের স্থানভিত্তিক একটি তালিকা প্রকাশ করেছে দি টেলিগ্রাফ পত্রিকা (১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯)। সংক্ষেপিত সেই বিবরণঃ
রেজিনগর, মুর্শিদাবাদ জেলা – ৪০০০ লোকের জনতা স্টেশনের টিকিট ঘর, অফিস ঘর ভাঙচুর করে। তারপর জাতীয় সড়ক ১২ অবরোধ করে।
সাগরদীঘি, মুর্শিদাবাদ জেলা – ৩০০০ লোকের জনতা জাতীয় সড়ক ১২ অবরোধ করে।
মনিগ্রাম – ৩০০০এর বেশী জনতা দুই ঘন্টা ধরে মনিগ্রাম রেল স্টেশন ভাঙচুর করে। এদের হিংসাত্মক তাণ্ডবে রেলকর্মীরা স্টেশন ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ফারাক্কা, মুর্শিদাবাদ জেলা – প্রায় ২০০০ দুষ্কৃতিকারী তিলডাঙ্গা রেল স্টেশন ভাঙচুর করে। স্টেশনের টিকিট ঘর, অফিস ঘর ধ্বংস করে দেয়।
লোহাপুর, বীরভূম জেলা – প্রায় ২০০০ দুষ্কৃতিকারী লোহাপুর রেল স্টেশন ভাঙচুর করে অফিসের আসবাবপত্র ও ফাইল রেল লাইনে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বাতাসপুর, বীরভূম জেলা – সাঁইথিয়ার কাছে বাতাসপুর স্টেশনে দু ঘন্টা রেলপথ অবরোধ।
মুরারই, বীরভূম জেলা – মুরারই – রঘুনাথগঞ্জ সড়ক তিন ঘন্টার জন্য অবরোধ।
খণ্ডঘোষ, পূর্ব বর্ধমান জেলা – বিজেপি অফিসে ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
হাওড়া জেলা – লিচুতলা, আমতা, পাতিয়ালে দুই হাজারের বেশী লোক পথ অবরোধ করে ও গাড়ীদের উপর জ্বলন্ত টায়ার ছুড়ে মারতে থাকে।
আক্রা, দঃ চব্বিশ পরগণা জেলা –দু হাজারের বেশী দুর্বৃত্ত জনতা আক্রা রেল স্টেশন ভাঙচুর করে, টিকিট ঘর, স্টেশন মাস্টারের ঘর জ্বালিয়ে দেয়।
ঊত্তর চব্বিশ পরগণা জেলা – আমডাঙ্গার কামদেবপুর অঞ্চলে জাতীয় সড়ক ১২ অবরোধ করা হয়। সোনাডাঙ্গা, ধানকল মোড়ে পথ অবরোধ করে টায়ার ও কাঠের গুড়ি জ্বালিয়ে দেয়। ভ্যাবলা, দেগঙ্গা, জীবনপুরে কংগ্রেস সমর্থকরা পথ অবরোধ করে।
নদীয়া জেলা – ছাপরার ইনসাফ ক্লাবের মাঠে জড়ো হবার পর জনতা করিমপুর-কৃষনপুর সড়ক অবরোধ করে।
এভাবেই পশ্চিমবঙ্গে শেষ হল তিন দিন ধরে সুপরিকল্পিত জেহাদী ধবংসলীলা। মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপি আই এম, কংগ্রেস – জেহাদী দুষ্কৃতিকারীদের কাছে মামুলী শান্তিরক্ষার আবেদন করে এবং সরকার ও প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে এই জেহাদী অভিযানকে সফল করলেন সবাই। তিনদিন পশ্চিমবঙ্গ হয়ে রইলো একধরণের পাকিস্তান। নাগরিকত্ব আইন একটি সাংবিধানিক বিষয়, তার বিরোধিতায় শুরু করা হলো রাস্তার লড়াই। আমাদের স্মরণে এলো সেই গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এর দিনগুলির কথা, স্মরণে এল সেই শ্লোগান – লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান।

১৯৪৬এর গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং এবং ২০১৯-এর জেহাদী হিংসা
১৩ই ডিসেম্বর ২০১৯, জুম্মাবার, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম জনতা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা ক্যাব-এর বিরোধিতায় আগুন জ্বালাল। এটি কোন অতিশয়োক্তি নয় – তিনটি দৈনিক সংবাদপত্রের শিরোনাম এরকম – “প্রতিবাদে আগুন জ্বলল রাজ্যেও”, “নাগরিকত্বের আগুন জ্বলল বাংলায়ও”, উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ স্টেশনে বিক্ষোভ ভাঙচুর, আগুন”। একেবারে পরিকল্পনা মাফিক না হলে একই দিনে, প্রায় একই সময়ে পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজ, উলুবেড়িয়া, বেলডাঙ্গা, গারডেনরিচ, নিউটাউন, ধর্মতলা, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ – আরো অনেক স্থানে একই ধরণের সহিংস বিক্ষোভ ঘটা সম্ভব নয়। এবং তা নিরবিচ্ছিন্নভাবে চললো তিন দিন। অথচ কোন সংগঠন এর দায় নিচ্ছে না। আরো লক্ষণীয় যে সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হলেও এরকম ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব কোথাও হয় নি। কলকাতা দিয়েই তা শুরু।
১৬ই আগস্ট, ১৯৪৬, জুম্মাবার। মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্বে মুসলিম লীগ সারা ভারতে ডাইরেক্ট একশন ডে বা প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দিয়েছে। কিন্তু তার ভয়াবহ কর্মটি শুরুটি হচ্ছে কলকাতায়। এর জন্য ২৯শে জুলাই ঘোষণায় জিন্না বলেছেন যে এতদিন ব্রিটিশ মেশিনগান ও কংগ্রেস অসহযোগের অস্ত্র দিয়ে আমাদের শাসিয়েছে। এবার আমাদের হাতেও আছে পিস্তল এবং আমরা তা ব্যবহার করতে প্রস্তুত। কলকাতায় ব্যাপক এই আক্রমণের প্রস্তুতি চলছিল। ঐতিহাসিক সুরঞ্জন দাস (উপাচার্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) তাঁর বইয়ে লিখেছেন গুণ্ডা অধ্যুষিত বস্তিতে বস্তিতে লীগ নিয়মিত সভা করে দাঙ্গার কয়েকদিন আগে থাকতে; প্রধানমন্ত্রী সোহরাবরদী নিজে উপস্থিত থাকেন। তারপর ১৬ই আগস্ট শুরু হয়ে যায় সকাল থেকে মনুমেন্টের সভায় যাবার পথে মুসলীমের লীগের দাঙ্গা।

আজকের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মুসলিম জনতার আক্রমণ সেই ৪৬-এর কথাই মানুষকে মনে করাচ্ছে, কেবলমাত্র কোন সাংগঠনিক প্রচারপত্র পাওয়া যায় নি। ডাইরেক্ট একশন ডে বা প্রত্যক্ষ সংগ্রামের একটি প্রচারপত্রের লেখা – আশা ছেড়ো না। তরোয়াল তুলে নাও। ওহে কাফের, তোমার ধ্বংসের দিন আর বেশী দূরে নয়। প্রচারপত্রে ছাপা হয়েছিল তরবারি হাতে জিন্নাহর ছবি। ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের সহিংস বিক্ষোভের ছবি টেলিভিসনে ও পরের দিনের কাগজে সবাই দেখেছেন। সেই মুসলিম ধর্মীয় পোষাকে হাজার হাজার মানুষ কোথাও আগুন লাগাচ্ছে, কোথাও ট্রেন আটকে নিরীহ যাত্রীদের উপর পাথর ছুঁড়ছে, কোথাও দোকানপাট ভাংচুর করছে। একেবারে ডাইরেক্ট একশন। কোন সরকারের কাছে প্রতিবাদপত্র দেওয়া, কিছুক্ষণ অবরোধ করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলে যাওয়া – এসব নিরামিষ ব্যাপার নয়। জানিয়ে দেওয়া হল – হাতে পিস্তল আছে।
এবার দেখা যাক, কেন ৪৬ আর কেনই বা ১৩ তারিখের ডাইরেক্ট একশন। ৪৬এর দাবী ছিল মুসলমানদের জন্য হোমল্যান্ড পাকিস্তান গঠনের। আর তার জন্য সহিংস আক্রমণ। পাকিস্তানের দাবীর সমর্থনে ছিল কমুনিস্ট পার্টি। ১৬ আগস্ট দাঙ্গার জন্য মুসলিম লীগ সরকার সাধারণ ধর্মঘট ঘোষণা করে। কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা এর বিরোধিতা করে, কমুনিস্টরা পাকিস্তানের দাবীর এই ধর্মঘট সমর্থন করে। আর আজকের ১৩ ডিসেম্বরের ডাইরেক্ট একশনও পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বা আরেক পাকিস্তান তৈরীর দাবীতেই। বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবী দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এর সমর্থনে কংগ্রেস, কম্যুনিস্ট, তৃণমূল কংগ্রেস – সবাই ছিল। সুতরাং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সবারই সমর্থন করার কথা। এমনকি অসমেও এই দলগুলি এই দাবীকে সমর্থন করেছে। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন বহিরাগত মুসলমানদের ভূয়া নাগরিকত্বের পথটি বন্ধ করে দিল। ছবি আরো পালটে গেল নাগরিক পঞ্‌জীকরণ বা এন আর সি চালু করার কথা উঠতেই। এন আর সি-র মূল লক্ষ্য হল বাংলাদেশী মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিতাড়িত করা। এখানেই অসুবিধা কমুনিস্টদের কারণ কমুনিস্ট দলগলি সবসময়ই ভারতে ইসলামি মৌলবাদের সমর্থন করেছে। পাঁচ হাজার বছরের ভারতীয় সংস্কৃতি ধ্বংস ও ইতিহাসের বিকৃতি না ঘটিয়ে কমুনিস্ট মতবাদের ভারতে প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভোট নির্ভর দল। এই মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা ও পেশী শক্তি তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল ও তা ধরে রাখার প্রধান চাবিকাঠি। ফলে এই দলটি এখন সরাসরি ইসলামি মৌলবাদের তোষণকারী দলে পরিণত হয়েছে। ফলে নাগরিকত্ব আইন ও এন আর সি বিরোধিতা তাদের একটি প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ আরেকটি পাকিস্তান হলে তাদের কিছু যায় আসে না। সুতরাং ২০১৯এর ১৩ ডিসেম্বরের ডাইরেক্ট একশনে ১৯৪৬এর পাকিস্তান তৈরির আন্দোলন আবার ফিরে এসেছে।
১৯৪৬এর ডাইরেক্ট একশন ডে-তে সরকার ও প্রশাসন কি ভূমিকা নিয়েছিল? আগেই উল্লেখ করেছি যে বাংলার প্রধানমন্ত্রী (তখন মুখ্যমন্ত্রীকে বলা হত) সুরাবর্‌দী নিজেই দাঙ্গার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সরকার থেকে দাঙ্গাকারীদের লরি পেট্রোল, কেরোসিন যোগান দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্‌দী ১৬ই আগস্ট নিজে লালবাজার কন্ট্রোল রুমে বসে থেকে পুলিশ যাতে কিছু না করে তা দেখতে থাকেন। নির্বিবাদে চলে হত্যা লুন্ঠন। মৌলানা আজাদ বা ফজলুল হক, দুজনেই দাঙ্গার জন্য লীগ সরকারকে দায়ী করেন। বাংলার আইনসভায় (বিধানসভা) শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সুরাবর্‌দীকে প্রশ্ন করেন – কেন সে দিন তিনি শহরটিকে গুণ্ডা, অপহরণকারী ও লুন্ঠকারীদের হাতে তুলে দিলেন? সুরাবরদীর বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে লুন্ঠকারীদের ছাড়িয়ে আনার অভিযোগ ছিল। শ্যামাপ্রসাদ সুরাবর্‌দীকে আইনসভায় বলেছিলেন ‘গুণ্ডার সর্দার’। আজকের পশ্চিমবঙ্গে ‘গুণ্ডার সর্দার’ কে?
অনেকটা আজকের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে না! মুখ্যমন্ত্রী থানায় গিয়ে অপরাধী ছাড়িয়ে আনছেন, এতো আমাদের চেনা ছবি। বাংলার প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্‌দী পুলিশকে থানায় বসিয়ে রেখেছেন, কারণ মুসলিম লীগের গুণ্ডারা আক্রমণ চালাচ্ছে। ঠিক যেরকম ২০০৭ সালে মধ্য কলকাতায় ইসলামি মৌলবাদী গুণ্ডারা তসলিমা নাসরিনের বিতাড়নের দাবীতে টেলিভিসন ক্যামেরার সামনে ভাংচুর, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ দিনভর চালিয়ে গেল, কমুনিস্ট বুদ্ধিজীবি মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিছুই করলেন না, পরে মিলিটারী এল। ২০১০এও দেগঙ্গায় ইসলামি মৌলবাদী গুণ্ডারা ভাংচুর, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ চালালেও মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচারয্যের পুলিশ কিছুই করে নি। এরপর তৃণমূল। ২০১৭ তে কলকাতার পাশেই ভাঙড়ে এক সম্প্রদায়ের মানুষ ১০টি পুলিশ ভ্যান জ্বালিয়ে বা পুকুরে ফেলে পুলিশ পেটালেও পুলিশ কিচ্ছু করে নি। কালিয়াচকে হাজার হাজার ইসলামি মৌলবাদী থানা জ্বালিয়ে দিলেও কিছু করা হয় না। আর ১৩, ১৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, আবার টেলিভিসন ক্যামেরার সামনে ভাংচুর, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ চলল দিনভর। পুলিশকে তেমন কিছু করতে দেখা যায় নি। গুলি চলেনি কোথাও।
৪৬ এর দাঙ্গায় নিহত হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষা। শুরুর দুদিন পর ১৯৪৬ সালের কলকাতার ডাইরেক্ট একশন প্রতিরোধের মুখে পড়ে। শুরু হয় প্রতিরোধ। সুরঞ্জন দাস তাঁর প্রাগুক্ত পুস্তকে হিন্দুদের প্রস্তুতির কথাও লিখেছেন। হিন্দুদের এই সক্রিয় প্রতিরোধ ইসলামী আক্রমণকে পর্যুদস্ত করল।। ফলে কলকাতা পাকিস্তানে যায় নি, ফলে পশ্চিমবাংলার প্রায় সব মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষ, প্রফুল্ল সেন, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য – পূর্ববঙ্গীয় হয়েও এখানে রাজত্ব করে গেলেন। বাঙ্গালী হিন্দুর হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গ গঠিত হল । আজকের এই জেহাদী আক্রমণ কি ৪৬-এর মতনই পরাজিত হবে না?

ক্রমশঃ

© মোহিত রায় , সুজিত সিকদার


PART -3

Let us now turn our gaze at Murshidabad: On 14th December, Islamists had a free run in Murshidabad. It was the very picture of what would happen in West Bengal in the days to come. Since the Railways is a subject of the Central Government, rail property became the primary target of these attacks. The Islamist violence which unfolded throughout 14th December has been reported by Sangbad Pratidin (15 December 2019). The daily writes,

“Five trains consecutively set ablaze completely from one end to the end, from the very first coach to the last one. Two trains parked at the station were up in blazing flames. The wreckage of railway properties piled up all around and the air was heavy with the screams of terrorized passengers. Amidst all this, one could hear the war cries of the fanatic attackers. The scene at Murshidabad’s Krishnapur Station on Saturday evening was representative of the burning situation that has been created in some areas of West Bengal by the protesters of the Citizenship Amendment Act (CAA). From Kona Expressway in Howrah to Beldanga in Murshidabad, extensive areas of the state, much like on Friday, were engulfed in the flames of unprecedented protest and agitation on Saturday as well. In most of the cases, the agitation turned into plain and simple hooliganism. Cars and buses were set on fire after roadways were blocked by burning tyres, passengers were forcibly made to get down midway. The simultaneous blockade of the rail lines caused trains to stop and heightened the harassment of the common people.”

“The heat of the anti-CAA agitations spread to Bengal early on Friday. After the mayhem of Friday that lasted till evening at Howrah, Murshidabad, and the North and South 24-Parganas, on this day, the protruding flames of agitation spread with renewed virility. The real shocker was the picture at Murshidabad. Around 4 pm, the demonstrators started arson at Lalgola Station. Next, two trains parked at Krishnapur Station were set on fire as well. The entire train was engulfed by the flames. However, that train of the Sealdah-Lalgola route was mostly vacant. As a result, there was no casualty. Three coaches of a train parked at Beldanga Station were set on fire. A fire brigade engine sent to put out the flames, was too set on fire and burnt down. Demonstrations were held in phases throughout the day at Berhampur, Beldanga, Lalgola, Domkal, Suti, Shamsherganj, Sagardighi, Raghunathganj, Jangipur, and Farakka. Railway blockade, blockade of the National and State highways, arson targeting the public property, ransacking – everything happened. The PWD office, the bus stand, and the post-office at the Lalgola Bazar area were set on fire. Saturday’s blockade held on National Highway-38 in different phases, disrupted public life. Multiple railway stations in the Murshidabad district, including Lalgola, Krishnapur, Beldanga, Poradanga, Nimtita, Dhuliyan, Basudebpur, etc were reduced to ashes. The protesters also dug out railway tracks at Poradanga Station with spades. There were allegations of ransacking of the Samserganj Police Station. No doubt, it was an eventful day for Murshidabad. Bricks were pelted in Islampur at the house of the President of Raninagar-1 Panchayat Samity. There were instances of cars and motorcycles being set on fire. The situation at Howrah, a district adjacent to Kolkata, was no different than that at the border-district of Murshidabad. Howrah was rife with incidents of violence. Demonstration and vandalism followed at the rail stations of Bauria, Sankrail, and Uluberia. At Sankrail, the ticket counter was set on fire. The East Cabin and the station manager’s room, and the panel room at the station was ransacked: the agitators registered their protest against the CAA by burning of a tyre on the rail tracks at this station. As a result, railway traffic was disrupted. The effect of this disruption manifested on Mumbai Road. People held up at different parts of the Mumbai Road suffered from the harrasment. Demonstration continued throughout the day in Uluberia, Bagnan, Shyampur, and many other areas in the Howrah district. The situation became tense to an explosive degree at Kona Expressway. Angry demonstrations were staged here by burning tyres. When the police came to clear away the demonstrators, a skirmish broke out between the mob and the cops. The police were targeted with bricks. Officers and other personnel of the Howrah City Police department sustained injuries. The police lathi-charged and dispersed the mob of demonstrators. The demonstrators set seven state buses on fire after forcing the passengers to get down. Allegations also came up about setting police vehicles on fire. Ultimately, cops had to fire tear-gas shells to bring the situation under control. There were allegations of rubber bullets being fired. Railway traffic on the Howrah route was considerably affected due to the blockade of the rail line. Incidents of day-long unrest on the Sealdah-Hasnabad route of the North 24 Parganas came to light. Rail traffic was disrupted due to the blockades and demonstrations throughout the day. Demonstrations were held in phases at Amdanga on National Highway-34. In front of a store in Santoshpur of Duttapukur town where demonstrations were going on, oil heating on a kadhaihad been allegedly thrown at the demonstraters. Seven people have sustained injuries due to this incident. Right after this, the demonstrators turning belligerent, started ransacking stores in the neighborhood. There were incidents of arson too. The unrest has affected cross-border trade as well. Besides, Harishchandra station of Malda district was ransacked, and there were cases of arson as well. From commuters to cops, a lot of people have sustained injuries due to the brick hurled by the agitators. The picture was much the same for demonstrations at Bardhaman, Birbhum, and Nadia.

(Sangbad Pratidin 15 December 2019).

Read again, carefully:

“Two trains parked at the station were up in blazing flames. The wreckage of railway properties piled up all around and the air was heavy with the screams of terrorized passengers. Amidst all this, one could hear the war cries of the fanatic attackers. ”

Just think, where you are living, a place where Islamist mobs can create such a traumatic scene, unhindered. Is it India, or Pakistan? Read again:

“Three coaches of a train parked at Beldanga Station were set on fire. A fire brigade engine sent to put out the flames, was too set on fire and burnt down.”

One by one, railway stations were burning — “Multiple railway stations in the Murshidabad district, including Lalgola, Krishnapur, Beldanga, Poradanga, Nimtita, Dhuliyan, Basudebpur, etc were reduced to ashes. The protesters also dug out railway tracks at Poradanga Station with spades.” This is the description of a battlefield. Who are the people that waged this war? Whom this war is being waged against? It is high time that we get a clear understanding of this. An understanding of why Islamist mobs waged ths war and also why the state’s police administration is silent on it.

“In unprecedented violence, anti-CAB agitators set fire to several trains which were parked at the loco-shed at Krishnapur railway station, the penultimate station located close to Lalgola, the terminal station in Sealdah-Lalgola sections. At Beldanga railway station, protesters who set the station ablaze yesterday, were allowed to carry on with their dance of destruction today”.
(The Statesman, 15 December 2019).

Read carefully. The Islamist mob of Murshidabad came and set fire to three trucks parked at the locomotive shade of Krishnapur railway station siding. Is this possible in a mere political demonstration? Only a day earlier, Beldanga station was set on fire, but the very next day, the same rioters were there to indulge in willful destruction of railways property without having to face any obstacle. The Statesman (15 December, 2019) have elaborated further:

“The fire engine that arrived at Beldanga from Behrampore was set on fire while the fire fighters saved themselves by taking shelter at Beldanga police station, said fire officials here. Three vehicles were lying charred inside the Beldanga-I BDO office ground, that was vandalized yesterday.”

These firefighters who had come to douse the fire at Beldanga, somehow escaped the scene to take refuge at a police station. The fire department’s vehicle was burnt down as well. The Islamist rioters have burnt down even the quarters of the railway police.” “The iron cots of the GRP personnel at Beldanga were charred as the attackers went upstairs and set fire to the first floor of the building yesterday.” “ ‘God saved my life. I managed to escape, ‘ said Mr. PriyanathHaldar, a GRP personnel. He said that he had hidden himself inside a political party office”.
(The Statesman, 15 December 2019).

The Railway Police quarters at the Beldanga Station had been burnt to the ground. PriyanathHaldar, a railway police personnel, told us: “God saved my life. I managed to escape”. But, for how long will the Hindus of West Bengal keep fleeing for their lives?

The English daily The Telegraph has published a document listing the various places in West Bengal where this jihadist violence took place. From among these, let’s what the situation was in various places, except for the ones already discussed.

Nimtita, Murshidabad District- The Jihadist mob attacked the Nimtita Station in the morning. The office of the station master and the ticket counter was burnt to ashes. Next, the mob sat on a demonstration on the railway tracks, thus bringing railway traffic to a standstill.

Sargachi, Murshidabad District- The Sargachi Station came under a massive destructive attack. The Station Master’s office and the ticket counter were burnt to the ground.

Suti, Murshidabad District – Three state buses were set on fire. Next, a blockade was set on the National Highway 12.

Samsherganj, Murshidabad District – The jihadist mob attacked the Samsherganj police station and thew stones inside the compound.

Murarai, Birbhum District – Almost five thousand people sat on a demonstration on the railway tracks, bringing the rail traffic at a standstill. As a result, many important trains were laid over at different places.

Sondalia-Lebutala, North 24 Parganas – Railway tracks were blocked at Sondaliya-Lebutala Station on the Barasat-Hasnabad route, holding up railway traffic. Stones were pelted at the train and the station office was ransacked. Blockading the National Highway 12 with burning tyres on the road, at least 500 trucks importing goods to Bangladesh were held up. These trucks often carry various perishable goods which are prone to be wasted away, if trucks are held up for too long.

Harishchandrapur, Malda District – Along with a few hundred jihadist youth, adolescents too led the attacks that destroyed platform chairs, ticket booking counter, computers and more. Stones were hurled at the railway personnel. These rioteers blocked the Malda-Katihar passenger train, generating fear among the passengers.

Kaliachak, Malda District – Kaliachak is a familiar name when it comes to Islamist terrorism . Here, college students and the local mob blocked the roads. (The Telegraph, 15 December 2019)

https://economictimes.indiatimes.com/news/politics-and-nation/anti-caa-protests-intensify-in-kolkata-many-protesters-detained-in-hyderabad/videoshow/72883096.cms

The daylong incidents of Saturday have been summarized by Times of India (15 December, 2019):

“Buses, trains, stations torched as stir over new law turns into vandalism – Violent agitations over the Citizenship Amendment Act rocked parts of Bengal on Saturday with four districts – Murshidabad, Howrah, Maldah and North 24 Parganas – emerging as flashpoints where protesters torched at least 17 buses, five empty trains, fire engines and police vehicles, vandalized half a dozen rail stations, hurled stones at passing vehicles and fought a pitched battle with police. In Murshidabad’s Jangipur, there were reports of protesters using children as human shields.”

It’s an utterly war-like situation in which children have been dragged to participate. Not just in Jangipur, these Muslim children and adolescents got to sharpen their skills at everything from stone pelting to arson in different places on various occassions. Far from firing, the police remained completely passive. Naturally, there is no report of any casualty among the rioters from the police’s lathi-charge or any other types of attacks on them. As a matter of fact, there was no sincerity in any of the statements issued by figures ranging from the Chief Minister to the self-proclaimed intellectuals. There were only some hollow calls for peace, pleadings for not taking law in one’s own hands, and weak threats of punitive action. Evidently, these jihadist rioters knew in advance that the police of this state, shall not take any action against them. When Islamic fundamentalists had made Central Kolkata burn for a day in order to expel the renowned Bangladeshi writer Taslima Nasrin from West Bengal, or when the jihadist mob ransacked Hindu households at Deganga, the police force under Buddhadev Bhattacharya, the communist Chief Minister of the state, simply did nothing. During the Trinamool regime, the police never seemed to do much, be it about the burning of police vehicles at Kaliachak by an Islamist mob, at Dhulagarh or, Rajabazar tram depot where 46 buses, 11 cars, and 2 trams were burnt down, and in many other similar cases as well. As a result, the jihadist mob despite unleashing violence on Friday, took to the streets on Saturday to unleash more violence without any repercussions, thus showing West Bengal who really runs the state. So, why would they cease their operations even on a Sunday?

Sunday, 15th December 2019

After so many appeals and advices by the chief minister on newspapers and television, on Sunday, the next and the third day of the protests, the jihadist mob took to the streets in order to finish off the remaining work towards destruction of West Bengal. Sangbad Pratidin (16 December, 2019) writes,

“Though the capital city remained peaceful on Sunday, havoc continued in full force in the adjacent regions as well as in the districts. Miscreants carrying lathis, rods, and other arms ran amok in Diamond Harbour, Caning, Pujali, Akra, and Maheshtala in the South 24 Parganas. Railway service on the Diamond Harbour and Budge Budge routes was disrupted for an extended period. Akra station in Budge Budge was set ablaze. The passengers were attacked. Two trains were wrecked. The police came under attack. The blockade on the highways resulted in Kulpi, Namkhana, Kakdwip being cut off. … Several hundreds of armed miscreants attacked the Bhaluka Station in Malda. After rampant vandalism at the station, the station master’s cabin was soaked with petrol and then set ablaze. The terrorized railway staff fled the scene. The rail police had to surrender helplessly. On Saturday, a similar rampage was conducted here at Harishchandrapur Station. The situation in different localities of Murshidabad reached explosive proportions on Sunday. Both the roadways and the railway closed down almost entirely due to the havoc caused here by a fanatic mob. Everywhere, the trick remained the same – blockade created by burning tyres in the middle of the road. Railway blockades also occurred on the Farakka, Jangipur, Katoa routes. 11 state buses were ransacked. Sagardighi, Sheikhdighi, Naoda, Raghunathganj – the flames of unrest seemed to be burning everywhere. Some people barged into the BJP-office of Bardhaman and vandalized it. Unrest grew in a number of areas. To handle the fast escalating unrest in these areas of mixed religious population, extra forces were soon deployed. A BJP office was ransacked in Kotashur, Mayureshwar of Birbhum district. In this area, the anti-CAA mobs barged into several houses to carry out their attacks. Then again, at Kantagaria, a dias meant for a TMC party meeting was demolished. Here, the leader of the ruling party was beaten up.

“Jaipur in Bankura district has burned. There too, the BJP office was set on fire. The Bishnupur-Kotulpur highway was blocked. It was alleged that a few shops were attacked at Jaipur More by people from the rally of the ruling party. Tyres were burnt on the streets. Traders were harassed and beaten up. The situation was heated at North 24 Parganas too. Amdanga has been under blockade for three days straight. Nearby in Kamdevpur, on the National Highway 34, the demonstrators were practically living on the streets, cooking and having their meals twice a day. No Behrampur or other north-bound buses could pass. Trouble broke out at the blockade in Deganga. At Barasat too, BJP offices were ransacked during the blockade. The BJP held another blockade in response. Overall, the picture of unrest in the state remained the very same. More scenes of these terrors were gradually coming into focus.”

Sangbad Pratidin (16 December, 2019)

In simple words, West Bengal remained captive in the hands of the Jihadists for three days. The analogy of a protest against a Parliamentary issue:

“Some people ran amok in Diamond Harbour, Caning, Pujali, Akra, and Maheshtala of South 24 Parganas carrying batons, rods, and other arms.”

But the situation grew even more terrifying. EiSamay (16 December, 2019) reports:

“What’s notable here in the attacks of Bhaluka Station on this date is that various small rallies first gathered before the Bhaluka Road Station under the banner of the national flag. The moment the gathering expanded, the miscreants became active. After setting the ticket counter and the station manager’s cabin ablaze, the mob lined up on the railway tracks. Tyres too were burnt on the tracks.”

It was an innovative strategy as well as an insult to the national flag. As we have mentioned earlier, there were no party or organizational banners, no leaflets, no leaders, yet, destruction continued on a war footing. The abuse of the national flag, children, and adolescents were also seen. Incidentally, no woman could be spotted in this Jihad. But, in the all-India Jihad which ensued after being encouraged by the success of West Bengal, women would be used at the forefront – from Shahin Baagh to Park Circus.

This Jihadist strategy is not only about setting a few stations on fire, but more about upsetting the railway network. For West Bengal, the most significant network is the North-South Railway connectivity. EiSamay (16 December, 2019) therefore created the headline – “North Cut Off”. The Jihadists upsetted this connectivity, rendering it nonfunctional to test the waters for future operations with sloganeerings like – ladke lenge Paschim Bangal!

This massive Jihadist assault is not the work of a few miscreants, rather an entire jihadist society is complicit in it – Times of India (16 December, 2019) writes,

“Around 11.30am, a mob of around 15,000 – chanting anti-CAA slogans – gathered outside Bhaluka Road station in Malda. They ransacked the ticket counter and set it on fire. Then they ransacked the station master’s room. The station master managed to escape, but some railway men were assaulted”.

Fifteen thousand people rallied to the station and set the place on fire. At some places, the Trinamool Congress got directly involved in such affairs. Times of India (16 December, 2019) writes:

“At Karandighi, North Dinajpur, a Trinamool procession came out in protest of CAA and NRC around 11 am. Some from the procession came out to attack buses on the road. At least five buses were set on fire.”

The English daily The Telegraph (15 December, 2019) has published a list of places where the state-wide jihadist havoc of Sunday (15 December, 2019) were concentrated upon. Here is that description in brief:

Rejinagar, Murshidabad District – A mob of 4,000 ransacked the ticket room, and office cabins. Next, they blocked National Highway 12.

Sagardighi, Murshidabad District – A mob of 3,000 blocked the National Highway 12.

Manigram,Murshidabad District – A mob consisting of more than 3,000, ransacked the Manigram rail station for two hours straight. The railway personnel fled the station after the violence and destruction caused by the mob.

Farakka, Murshidabad District – Nearly 2,000 miscreants ransacked the Tildanga rail station. They destroyed the ticket room and office room at the station.

Lohapur, Birbhum District – Nearly 2,000 miscreants ransacked the station and its office furniture, then threw work files on the tracks and set fire.

Batashpur, Birbhum District – Blockade on the railway line at Batashpur near Sainthia for two hours.

Murarai, Birbhum District – Murarai-Raghunathganj highway was blocked for three hours.

Khandaghosh, East Bardhaman District – The BJP office was ransacked and set ablaze.

Howrah District – More than two-thousand people blocked the roads at Lichutala, Aamta, and Patiyal, while continuing to throw burning tyres at vehicles.

Akra, South 24 Parganas District – A mob having more than two thousand miscreants ransacked the Akra rail station, and set its ticketing room and the station master’s cabin ablaze.

North 24 Parganas District – The national highway 12 was blocked in Kamdevpur region of Amdanga. Roads were blocked at Sonadanga and Dhankal More while tyres and wooden planks were set on fire. At Bhyabla, Deganga, and Jibanpore, Congress supporters were found blocking the roads.

Nadia District – After gathering at the Insaaf Club grounds of Chapra, the mob blocked the Karimpur-Krishnapur Road next.

A well-plotted, three-day long, jihadist destruction was thus conducted in West Bengal. The Chief-minister, Trinamool Congress, CPI(M), and Congress – kept extending their vacuous appeals for peacekeeping to the Jihadist miscreants. Additionally, by keeping the Government and administration passive, all of the above mentioned parties made this Jihadist venture a success. West Bengal became a replica of Pakistan for these three days. The Citizenship Act is a parliamentary subject, but here a fight on the streets was initiated to oppose it. This reminded us of the days of the Great Calcutta Killing, of that slogan – ladkelenge Pakistan.

The Great Calcutta Killing of 1946 and the Jihadist violence of 2019

13th December 2019, on a jumma-day, the Muslim mobs started a fire at various places in West Bengal in protest of the Citizenship Amendment Act or CAA. This is no exaggeration – three daily newspapers carried similar-sounding headlines like – “Fire of protests now burning the state”, “Fire against Citizenship Act lit in Bengal too”, “Demonstration with rampage and arson as tensions rise in Murshidabad Station”. It is not possible without prior planning to have violent demonstrations of similar nature taking place on the same day, at the same time in – Park Circus, Matiaburj, Uluberia, Beldanga, Garden Reach, New Town, Dharmatala, Purulia, West Midnapur, Howrah, Murshidabad, and various other places. And, this continued uninterrupted for three days, although, no organization took responsibility for this. It’s doubly interesting to mark that, though demonstrations against CAA have broken out at several places in the country, nowhere has it been to this destructive proportion. This kind of havoc began with Kolkata.

16th August, 1946, a jumma-day. Under the leadership of Muhammad Ali Jinnah, the Muslim League had called for Direct Action Day over entire India. The first strike of this atrocious operation fell upon Kolkata. Because of this, on the announcement of 29th July, Jinnah said- ‘so far, the British have threatened us with their machine guns and the Congress with their weapon of non-cooperation. Now we have possession of pistols and we are ready to use them too.’ The preparation of this mass-scale attack was going on in Kolkata. Historian Suranjan Das (Vice-chancellor, Jadavpur University) writes in his book Communal Riots in Bengal 1905-1947 (Oxford University Press: 1991 & 1993), how since a few days prior to the riots, the Muslim League would regularly hold public meetings from one hooligan-infested slum to another. In these meetings, Prime Minister Suhrawardy himself would remain present. After this, on 16th August 1946, on the way to a public meeting held at the Monument, Muslim League- sponsopred riots broke out.

Today’s attacks led by the Muslim mob all over West Bengal is reminding people precisely of 1946, only, in this case, no leaflets of any organization could be found. On a leaflet shared on the Direct Action Day, reads – ‘Don’t lose hope. Take up your sword. O Kafir, your destruction is not very far.’ An image of Jinnah brandishing a sword was printed on the leaflet. Everyone saw the picture of that violent protests of 13th to 15th December on TV, and in the newspapers the day next. Thousands of people donning the typical Islamic religious dress setting fire to properties, pelting stones on innocent passengers while blocking a train, ransacking shops and market places. It was exactly like Direct Action Day! Submitting statements of protest to the government, blockading for sometime to attract attention and then departing – there was no such sanitized course of action. It was a proclamation that – we have got guns.

Now let us see, what makes this situation analogous to that of August 1946 and the ‘Direct Action’ of 13th. The demand of the 1946-event was for the creation of Pakistan – a Muslim homeland. And a violent assault led in the pursuit of the same. The communist party was standing in support of the creation of Pakistan. To organize the riots, the Muslim League government announced a general strike on the 16th of August. The Congress and the Hindu Mahasabha opposed this move, whereas, the communists stayed in support of the general strike demanding for the creation of Pakistan. And the Direct Action of 13th December of the present time again demands the creation of a West Bangladesh or maybe, another extension of Pakistan, out of the state of West Bengal. The demand for the citizenship of the refugees arriving from Bangladesh has been around for a long time. Political parties of all shades, be it – the Congress, the communist party, or the Trinamool Congress, were in favor of this demand. It is therefore expected for everybody to be in support of the Citizenship Amendment Act. In fact, the same political parties have extended their support for the law in Assam. But the revised Citizenship Law also barred the means of acquiring fake citizenship for Muslims arriving in the country from outside. The picture changed more drastically when the matter came to registration of citizens or enforcement of NRC. The primary aim of NRC is to identify Bangladeshi Muslim infiltrators and process their deportation. Here lies a predicament for communists since the communist parties in India have always stood in support of Islamic fundamentalism. It is impossible to establish communist ideology in India without destroying Indian culture and distorting its history. The Trinamool Congress is an election-centric political party. For the Trinamool Congress, the key to aquiring power in West Bengal and holding on to the same, lies primarily with the large numbers and muscle power of the Muslim infiltrators. Consequently, the party has now developed fully into an organization which appeases Islamic fundamentalism. So, the opposition of Citizenship Act and NRC is a key political obligation for this party. Due to this, if another Pakistan emerges out of West Bengal, it’s the least of Trinamool’s concerns. Evidently, the movement for the creation of Pakistan in the year 1946 has made a comeback in the form of the Direct Action observed on 13 December, 2019.

What role did the government and administration assume during the event of Direct Action Day of 1946? As mentioned already, the Prime Minister of Bengal (title for Chief Ministership of states in those days) – Suhrawardy himself was busy organizing the riots. Trucks, petrol, and kerosine were supplied to the rioters from the government. Prime Minister Suhrawardy in person remained present at Lalbazar control room to ensure inaction of part of the police. Unresisted loot and murder was the order of the day. Moulana Azad and Fazlul Haque, both held the League government responsible for the riots. At the Bengal Legislative Assembly (Bidhan Sabha), Shyama Prasad Mukherjee raised a question directed at Suhrawardy – why had Suhrawardy handed the city over to goons, hijackers, and looters on that fateful day? Suhrawardy was alleged to have gone to the police station and bailed out the criminals. Shyamaprasad called Suhrawardy the ‘kingpin of criminal activities ’ at a Legislative Assembly meeting. Who might be that kingpin in present-day West Bengal?

Doesn’t this have much in common with today’s West Bengal? A Chief Minister going to the police station, bailing out criminals, that’s a picture we all know too well. Suhrawardy, the Prime Minister of Bengal Province kept the cops benched at the station so that the goons of the Muslim League can have a free run. It is completely in the same manner the Islamic fundamentalists organized a day-long program of ransacking, loot, and arson in central Kolkata in the year 2007 while demanding for the deportation of Taslima Nasreen. The then-Chief Minister Buddhadev Bhattacharjee, a notable communist intellectual, failed to take any action. Later, the army was brought in. In 2010 at Deganga too, though Islamic fundamentalist goons again organized mass ransacking, loot and arson, the police of Buddhadev Bhattacharjee stood passive witnesses. This time, it is Trinamool. The police still failed to take any action, when the people of a certain community set ten police vans ablaze and beat up cops after pushing them into a local pond at Bhangor in 2017. Police action was withheld when thousands of Islamic fundamentalists burned down police outposts at Kaliachak. During 13th to 15th December 2019, ransacking, loot, and arson went on throughout the day before the TV camera. The police barely did its job. There was no shooting.

Thousands of people were killed in the riot of ‘46. The Direct Action in Kolkata was greeted with resistance, a couple of days after the riots had begun. Resistance started in full force. Suranjan Das has written about the preparation of the resistance in the aforementioned book. This active resistance by Hindus utterly undermined the Islamic attack. As a result, Kolkata could not be made into a part of Pakistan, that is why almost all the Chief Ministers of West Bengal – Chief Minister Prafulla Ghosh, Prafulla Sen, Jyoti Basu, Buddhadev Bhattacharjee – despite their East Bengal origin – could go on reigning in this state. West Bengal was created into the homeland of Bengali Hindus. Can today’s Jihadist attack be repelled just as it was in 1946?

To be continue..

C: Mohit Ray and Sujit Sikdar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.