শ্রীরামকৃষ্ণ রামের উপাসকও ছিলেন, এটা যেন না ভুলি- ‘রাম’ ব্যতিরেকে রামকৃষ্ণ নন।

শ্রীরামকৃষ্ণ-সত্তায় অর্ধেক রাম, অর্ধেক কৃষ্ণ; ইদানীং তিনি রামকৃষ্ণ। একইদেহে রাম আর কৃষ্ণ সুমধুর; একতারাতে দোঁহে বাঁধা। অথচ অবতার-বরিষ্ঠ শ্রীরামকৃষ্ণ-র পরিচিতির মধ্যে বাংলার বুধজন যেভাবে তাঁর শ্রীরাম সত্তাকে, শ্রীরাম-সাধনাকে লুকিয়ে রাখতে চান, তার মধ্যে অনৈতিক উদ্দেশ্যই কাজ করে। সুযোগসন্ধানী মানুষ তো বলেই বসেন, বাংলায় শ্রীরাম-সাধনা একেবারেই অপ্রচলিত, একটি রাজনৈতিক দলই তারRead More →

বিপ্লবীদের দ্রোণাচার্য হেমচন্দ্র দাসকানুনগো

বিপ্লবীদের দ্রোণাচার্য হেমচন্দ্র দাসকানুনগো আজকের দিনে মহাপ্রয়াণ লাভ করেন। ১৮৯১ সালের ৪ আগস্ট পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০২ সালে ঋষি অরবিন্দের কাছে বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষা নেন। ১৯০৬ সালে পৈত্রিক সম্পত্তি বন্ধক দিয়ে সেই অর্থে উন্নতমানের বোমা বানাতে প্যারিস যাত্রা করেন। ১৯০৮ সালে দেশে ফিরে তিনি প্রথমRead More →

মঙ্গল পান্ডে

কলিকাতার উপকন্ঠে উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার অন্তর্গত ব্যারাকপুর একটি মহকুমা শহর। উত্তরে কাঁচড়াপাড়া থেকে দক্ষিণে বরানগর পর্যন্ত ‘বারাকপুর’ মহকুমা বিস্তৃত। গঙ্গাতীরবর্তী এই শহরটি সিপাহী বিদ্রোহ ১৮৫৭ বা ভারতীয় জাতীয় মহাবিদ্রোহের কারণে বিখ্যাত। এর সূত্রপাত ঘটেছিল মঙ্গল পাণ্ডের মাধ্যমে, কলিকাতার উপকন্ঠে ব্যারাকপুরে। বিপ্লবী মঙ্গল পাণ্ডে ছিলেন প্রথম প্রতিবাদী, যিনি ব্যারাকপুর থেকে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন।Read More →

বিশ্ব বনদিবস, ২১ শে মার্চ – এরই প্রেক্ষিতে সনাতনী হিন্দুর প্রাচীন অরণ্য-বোধ  (অরণ্য ষষ্ঠী) -এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ

যে দিনটিকে আমরা জামাই ষষ্ঠী, বাঁটাষষ্ঠী বা স্কন্দষষ্ঠী নামে জানি, তারই আরেক নাম ‘অরণ্য ষষ্ঠী’। এটি একটি নারীব্রত। জ্যৈষ্ঠ্যমাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে পালিত হয় এই ব্রত। আরণ্যক জীবনাভিজ্ঞতার এক প্রাচীন স্মৃতি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে। অরণ্যের সঙ্গে এই দিনটি যুক্ত, সম্ভবত অরণ্য-কেন্দ্রিক সভ্যতার সঙ্গে মানুষের হারানো যোগসূত্র। তখন অরণ্য-মাতাই ছিলেন মানুষেরRead More →

হোলিকা-দহন এবং দোল পূর্ণিমার অনুভব

“ফাগুনে আগুন/চৈতে মাটি/বাঁশ বলে শীঘ্র উঠি।” গ্রাম বাংলার একটি পরিচিত কৃত্য হল বাঁশ বাগানের মেঝেতে ফাগুনমাসের সন্ধ্যায় অগ্নিসংযোগ। শীতকাল থেকেই বাঁশঝাড়ের তলায় পুরু হয়ে থাকে পাতার রাশি। বাঁশবাগানে হাঁটলে পা দেবে যায়। তারই মধ্যেই খসখস আওয়াজ তুলে হেঁটে চলতে খুব পছন্দ করতাম। মা বলতেন, “ওদিকে যাস নে, চন্দ্রবোড়া সাপ থাকে।”Read More →

কে বলেন, শ্রীরামচন্দ্র বাঙালির দেবতা নন?

একই দেহে রাম আর কৃষ্ণ মধুর; একতারাতে দোঁহে বাঁধা। অথচ অবতার-বরিষ্ঠ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রকাশের মধ্যে কিছু দুর্বুদ্ধিজীবী যেভাবে তাঁর ‘শ্রীরাম সত্তা’-কে লুকিয়ে রাখতে চান, তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মনে হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের, রানী রাসমণির, স্বামী বিবেকানন্দের শ্রীরাম সাধনার ধারা ভুলে গেছে বাঙালি। স্বামী বিবেকানন্দের বীরভাব, বীর সন্ন্যাসের রূপ যে শ্রীরাম সাধনার ধারাতেইRead More →

বুড়ুলে অনুরূপচন্দ্র সেনের ১০০ বছর

“বুড়ুলের চক্রবর্তী পরিবারের সেই বাড়ি এখনো আছে। কিন্তু টালির ছাউনি দেওয়া যে মাটির ঘরটায় অনুরূপ থাকতেন, সেটার অস্তিত্ব আর নেই—লীন হয়ে গেছে কালের গর্ভে। ১৯৯৭-এর জুন মাসে ঠিক ঐ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে একটা স্মৃতিফলক। তাতে লেখা আছে, বিপ্লবী বীর অনুরূপচন্দ্র সেনের পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে। প্রয়াণ—৩.৪.১৯২৮ ক্ষণিক উদয় হয়ে জ্যোতিRead More →

বাংলায় রামায়ণ রচয়িতা কৃত্তিবাসের জন্ম সরস্বতী পূজার দিন।

কবি কৃত্তিবাস ওঝা তাঁর ভণিতায় নিজের জন্ম সম্পর্কে বলছেন, “আদিত্যবার শ্রীপঞ্চমী পূর্ণ মাঘ মাসে”, মানে সেই বছরেরই দিন যেদিন মাঘ মাসের শেষ দিনটি ছিল রবিবার এবং শ্রীপঞ্চমী তিথি বা সরস্বতী পুজো। যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি জ্যোতিষ গণনায় তা নির্ণয় করেছেন ১৩৮৬ থেকে ১৩৯৮ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে কোন এক মাঘী পঞ্চমীতে অর্থাৎ কৃত্তিবাসেরRead More →

সরস্বতী কথামৃত

একটি কথা মতো:-সরস্বতীর জন্ম কীভাবে? জানা যায়, ব্রহ্মার কন্যা নাকি সরস্বতী! ব্রহ্মা ধ্যানে বসে সমস্ত গুণ একত্রীভূত করে সৃষ্টি করলেন এক কন্যার। সেই হলো সরস্বতী। বায়োলজিক্যালি মুখ দিয়ে কাউকে সৃষ্টি করা যায় না। যাই হোক, সৃষ্টির পরই মেয়ের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন পিতা। তিনি চাইলেন সেই মেয়ের সঙ্গে যৌনক্রীড়াRead More →

বাংলা প্রবাদ : আগে দিয়ে বেড়া/তবে ধরো গাছের গোড়া। কচ

“চারাগাছকে প্রথমে বেড়া দিয়ে রক্ষা করতে হয়, না-হলে ছাগল-গোরু এসে তাকে নষ্ট করে ফেলে। গাছ একবার বড়ো হলে আর সে ভয় থাকে না, তখন শত-শত গোরু-ছাগল এসে তার তলায় আশ্রয় নেয় ও তার পাতায় পেট ভরায়। সাধনার প্রথম অবস্থায় আপনাকে কুসঙ্গ, বিষয়বুদ্ধি ও সংসার ইত্যাদি থেকে রক্ষা করতে হবে, না-করলেRead More →