৩৮ বছরে পা দিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা বিরাট কোহলী। বয়স বাড়লেও মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স এবং ফিটনেস নজর কাড়ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম মেনে চলেন তিনি। তবে ফিট থাকতে দামি খাবার কিংবা রোজ নতুন নতুন পদ খাওয়ার পক্ষপাতী নন এই ক্রিকেটার। বরং সাধারণ খাবার এবং নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসের উপরেই ভরসা রাখেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসের নানা দিক তুলে ধরেছিলেন কোহলী।
বিরাটের মতে, ফিট থাকার জন্য সব সময়ে নতুন কিছু করার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে কোন অভ্যাসগুলি উপযুক্ত, তা খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফিটনেসের যাত্রার শুরুতে ভিটামিন, হাইড্রেশন, প্রোটিন-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন তিনি। পরে বুঝেছেন, প্রত্যেকের শরীরের চাহিদা আলাদা। তাই নিজের শরীরের সঙ্গে মানানসই একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন তৈরি করে সেটি নিয়মিত মেনে চলাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
কোহলীর মতে, শরীরচর্চার তুলনায় খাবারের ক্ষেত্রে অনুশাসন বজায় রাখা অনেক বেশি কঠিন। কারণ, খাবারের সঙ্গে স্বাদ, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নানা রকম চাহিদা জড়িয়ে থাকে। জিমে গিয়ে নির্দিষ্ট ব্যায়াম করা সম্ভব হলেও খাবারের ক্ষেত্রে পছন্দের পদ এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ।
তবে দীর্ঘ অনুশীলনের ফলে খাবারের ক্ষেত্রেও নিজেকে অনেকটাই অভ্যস্ত করে ফেলেছেন বিরাট। তাঁর কথায়, এখন চাইলে টানা ছ’মাস দিনে তিন বার একই খাবার খেয়েও থাকতে পারেন তিনি। প্রতিদিন নতুন স্বাদের খাবার চেখে দেখার বিশেষ আগ্রহ নেই তাঁর। বরং শরীরের উপযোগী পুষ্টিকর খাবারের নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ।
নিজের খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি রান্নার ধরন নিয়েও কথা বলেছেন এই ক্রিকেট তারকা। তাঁর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার প্রায় ৯০ শতাংশ খাবারই ভাপানো অথবা সেদ্ধ। রান্নায় মশলার ব্যবহারও অত্যন্ত সীমিত। নুন, গোলমরিচ ও লেবু দিয়েই বেশির ভাগ খাবার খেতে পছন্দ করেন তিনি। স্যালাডের সঙ্গে কখনও সামান্য ড্রেসিং ব্যবহার করেন। আবার প্যান-গ্রিল করা খাবার তৈরির সময় অল্প অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন।
এ ছাড়াও ডাল ও রাজমার মতো খাবার রয়েছে তাঁর পছন্দের তালিকায়। অর্থাৎ, জটিল কোনও খাদ্যতালিকা নয়, বরং সহজ উপকরণে তৈরি পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসই বিরাটের ফিটনেসের অন্যতম ভরসা। তাঁর জীবনযাপন থেকে স্পষ্ট, দীর্ঘদিন ফিট থাকতে নতুন নতুন নিয়মের চেয়ে নিজের শরীরের উপযোগী অভ্যাস ধারাবাহিক ভাবে মেনে চলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

