জ্ঞানেশ কুমারের ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’: প্রতিকূল আবহাওয়ায় পিছিয়ে গেল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কর্মসূচি, পাল্টা চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের

জ্ঞানেশ কুমারের ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’: প্রতিকূল আবহাওয়ায় পিছিয়ে গেল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কর্মসূচি, পাল্টা চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে ‘মক পার্লামেন্ট’ বা নকল সংসদ ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতা এবং সংসদ অবমাননার বিতর্ক এড়াতে ওই কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ বা জন মহাভিযোগ। শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গের সরকারি বাসভবনে (১০ রাজাজি মার্গ) এই কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা একদিন পিছিয়ে শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ নির্ধারণ করা হয়।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, দিল্লিতে প্রবল বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়ার কারণেই শুক্রবার খড়্গের বাংলোর খোলা লনে ওই কর্মসূচি করা সম্ভব হয়নি। পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবারের এই প্রতীকী অধিবেশনে লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার স্পিকারের ভূমিকা পালন করবেন। তবে সংসদ অমর্যাদার অভিযোগ এড়াতেই এই কর্মসূচিতে কোনও ‘ট্রেজ়ারি বেঞ্চ’ বা সরকার পক্ষের প্রতীকী উপস্থিতি রাখা হচ্ছে না।

শনিবারের এই কর্মসূচিতে মল্লিকার্জুন খড়্গেই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন। এরপর বিরোধী দলগুলির সাংসদ সংখ্যার অনুপাতে বক্তাদের সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। কংগ্রেসের পর সবচেয়ে বেশি সময় পাচ্ছে সমাজবাদী পার্টি, এবং তারপরেই রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কীর্তি আজাদ, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। এই বিশেষ কর্মসূচির একেবারে শেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ ও তোপ: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই পদক্ষেপের বিপরীতে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদেই এই বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর কটাক্ষ, ‘‘রাহুল বাবা কখনওই রাজি হবেন না। সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা না-করে উনি রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা করতে চান।’’

পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও নিশানা করে শাহ বলেন যে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিরোধীরা আলোচনা এড়িয়ে কেবল রাজনৈতিক নাটক করতে চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.