রাজ্যে পর পর দু’টি পুলিশি ‘এনকাউন্টার’, সমর্থনে আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না

রাজ্যে পর পর দু’টি পুলিশি ‘এনকাউন্টার’, সমর্থনে আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না

চার মাসের মধ্যে রাজ্যে দু’টি পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এর ঘটনা ঘটেছে। দু’টি ক্ষেত্রেই নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘এনকাউন্টার’-এর পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মত উঠে এসেছে। এ বার প্রকাশ্যে পুলিশের এই পদক্ষেপের সমর্থনে মুখ খুললেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজি কর-কাণ্ডে তাঁর চিকিৎসক মেয়েকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে তিনি খুশি হতেন বলে জানিয়েছেন রত্না। তাঁর মতে, এমন পদক্ষেপ অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করবে এবং অপরাধের ঘটনা কমাতে সাহায্য করবে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হয়েছিল এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের। সোমবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটাতেও পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। তাঁর বিরুদ্ধেও নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, বারুইপুরের ঘটনার মতো গাইঘাটাতেও অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি। পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রত্না বলেন, তিনি পুলিশের ‘এনকাউন্টার’-এর সম্পূর্ণ সমর্থক। আরজি কর-কাণ্ডে নিজের মেয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমার মেয়ের মতো ঘটনা… ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে। ছেলেটির মায়ের হয়তো কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু তিনি ছেলেকে ঠিক করে মানুষ করতে পারেননি।’’

ধর্ষণ ও খুনের মতো অপরাধে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির পক্ষে সওয়াল করে রত্নার বক্তব্য, ‘‘যারা মেয়েদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখে, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এই ‘এনকাউন্টার’ আমি সমর্থন করি। যারা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারা একটু হলেও ভয় পাবে এতে।’’

অপরাধ কমাতে নেশাজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ করার দাবি

ধর্ষণ ও খুনের মতো অপরাধের পিছনে নেশাজাত দ্রব্যের ভূমিকা রয়েছে বলেও মনে করেন পানিহাটির বিধায়ক। তাঁর দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অনেকে এ ধরনের অপরাধ ঘটাচ্ছেন। তাই রাজ্যে সমস্ত নেশাজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ করা উচিত।

রত্নার কথায়, ‘‘আসল কথা মদ! নেশা করে এমন কাণ্ড ঘটাচ্ছে। সমস্ত নেশাজাত দ্রব্য আমাদের রাজ্যে নিষিদ্ধ করা উচিত। তা হলেও অপরাধ কমবে।’’

আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন

নিজের চিকিৎসক মেয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে আগের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ভূমিকার তুলনা করেছেন রত্না। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার অপরাধীদের গ্রেফতার করার চেয়ে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা বেশি করেছিল। সেই সময় তাঁর এলাকার তৎকালীন বিধায়কও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরজি কর-কাণ্ডে তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে রত্না বলেন, ‘‘আমার মেয়ের ক্ষেত্রে ঘটনার পুনর্নির্মাণও হয়নি… তবে তদন্ত এগোচ্ছে। বিচার অবশ্যই হবে।’’

রাজ্যে পর পর দু’টি পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এর ঘটনা এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রত্নার এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার এবং পুলিশের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.