টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৭৮ রান যেকোনো দলের জন্যই অত্যন্ত সুবিধাজনক ও ম্যাচ জয়ের মতো বড় সংগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে দলগত স্কোরের জায়গায় যদি একক কোনো ব্যাটার একাই ২৭৮ রান তুলে নেন, তা ক্রিকেট বিশ্বে বিরল ও নজিরবিহীন। ঠিক এমনই এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটিয়ে ক্রীড়ামহলে হইচই ফেলে দিয়েছে দিল্লির ১৭ বছর বয়সি উদীয়মান ক্রিকেটার তন্ময় চৌধুরী।
‘স্কুলস টোটাল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট’-এর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে প্রতিপক্ষ বোলারদের ছাতু করে নজিরবিহীন এই ২৭৮ রানের ইনিংস খেলে তন্ময়।
ইনিংসে রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা
বাস্তবের ২২ গজে প্রতিপক্ষ বোলিং আক্রমণকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়ে তন্ময় তার এই অবিশ্বাস্য ইনিংসে ২২টি চার এবং ২৭টি দর্শনীয় ছক্কা হাঁকায়। ইনিংসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি আসে যখন সে টানা ৮টি বলে ৮টি ছক্কা মারে। এক বোলারের ওভারের শেষ ৫টি বলে ৫টি ছক্কা মারার পর, পরবর্তী ওভারে অন্য বোলারের প্রথম ৩টি বলকেও বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে এই দুর্লভ কৃতিত্ব অর্জন করে কিশোর ব্যাটার।
ধারাবাহিকতার স্বাক্ষর
টি-টোয়েন্টিতে বিশাল স্কোর গড়ার নজির তন্ময়ের জন্য এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বয়সভিত্তিক ও আন্তঃস্কুল ক্রিকেটে সে তার বিধ্বংসী রূপ দেখিয়েছে:
- আন্তঃস্কুল অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট (গত বছর): ‘দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল’-এর বিরুদ্ধে ৭৪ বলে অপরাজিত ২২৮ রানের ইনিংস খেলেছিল, যেখানে ছিল ২৩টি চার ও ২০টি ছক্কা (স্ট্রাইক রেট ৩০৮.১১)।
- চলতি প্রতিযোগিতা: ‘শ্রী রাম গ্লোবাল স্কুল’-এর বিরুদ্ধে ৬৯ বলে ১৮০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সে।
বর্তমানে দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য তন্ময় ইতিমধ্যেই দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ‘ইস্ট দিল্লি রইডার্স’-এর প্রতিনিধিত্ব করেছে এবং দিল্লির সিনিয়র দলের হয়েও মাঠে নেমেছে।
পরিবারের আনন্দ ও স্বপ্ন
ছেলের এই ঐতিহাসিক ব্যাটিং পারফরম্যান্সে গর্বিত তন্ময়ের বাবা সতীশ চৌধুরী। ছেলের ক্রিকেট যাত্রার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তন্ময় গত সাত বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে ক্রিকেট খেলছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তাঁর ছেলের ক্রিকেট প্রতিভার বিকাশ ঘটে। উন্নত পরিকাঠামোয় অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে তাঁকে দিল্লির ‘মডার্ন স্কুল’-এ ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে স্কুলের পাশাপাশি সে ‘গ্রেটন ক্রিকেট অ্যাকাডেমি’তেও নিবিড় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বাবার দাবি, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তন্ময় ইতিমধ্যে প্রায় ১০০টি শতরান এবং এক ডজন (১২টি) দ্বিশতরান করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

