দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। সোমবারও দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিরোধী দলীয় ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সোমবারে দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ (NSUI)-র সদস্যরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেডের সামনে শুয়ে পড়ে ‘জীবন্ত মৃত’ (Die-in) শৈলীতে অভিনব প্রতিবাদ জানান। জানা গেছে, প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। একই দিনে একদল প্রাক্তন আমলা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘গণ-ইমপিচমেন্ট নোটিস’ দিতে নির্বাচন সদনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদিগকেও মাঝপথে আটকে দেয় পুলিশ।
নির্বাচন কমিশনের ‘ভোটচুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিরোধী জোটের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর (গান্ধী জয়ন্তী) থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিরোধী সাংসদেরা নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে মিছিল করে যাবেন।
কংগ্রেসের মাসব্যাপী কর্মসূচি: কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ শীর্ষক মাসব্যাপী আন্দোলনসূচি ঘোষণা করা হয়েছে:
- ১০ – ২০ অক্টোবর: বুথ স্তরে প্রতিবাদ মিছিল এবং মহকুমাশাসকের (SDO) দফতর অভিযান।
- ২৫ অক্টোবর থেকে: মাসব্যাপী গ্রামে গ্রামে জনসভা।
- ১ নভেম্বর: নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের বিশাল সমাবেশ।
- ২৫ – ২৬ নভেম্বর: সর্বভারতীয় স্তরে ‘দিল্লি চলো’ অভিযান।
অন্যান্য রাজনৈতিক ও ছাত্র প্রতিক্রিয়া: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে এবং অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চিত না হলে এই প্রক্রিয়া বয়কট করা উচিত। পাশাপাশি, আগামী শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পূর্বে তাঁদের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের চক্রান্ত হচ্ছে বলে তিনি কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, কলকাতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বামপন্থী ছাত্র কনভেনশনে যোগ দেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। দিল্লিতে পুলিশি ধস্তাধস্তির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতা যন্ত্রণা পায়, আর কলকাতায় রক্ত ঝরলে দিল্লি অবশ্যই উঠে দাঁড়াবে।”

