সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা-নথি বিতর্ক: এসএসকেএম-কে আইনি নোটিস মমতার, নবান্ন থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর

সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা-নথি বিতর্ক: এসএসকেএম-কে আইনি নোটিস মমতার, নবান্ন থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর

২০২১ সালের নন্দীগ্রাম ঘটনার পর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আসাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা-নথি কীভাবে জনসমক্ষে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। এর জবাবে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনের ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে। এক প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে মমতার তৎকালীন চিকিৎসার নথি প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের সময় নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে আঘাত পাওয়া ও ‘পা ভাঙা’ নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ‘মিথ্যা দাবি’ করেছিলেন। পাশাপাশি, এই ‘মিথ্যা প্রচারে’র বিষয়ে উপনির্বাচন শেষে রাজ্য সিআইডি (CID)-কে দিয়ে তদন্ত শুরু করানোর ইঙ্গিতও দেন তিনি।

সোমবার সকালে মমতার আইনজীবী অর্ক নাগ এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, এমএসভিপি পীযূষ রায় এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের স্নায়ুরোগ বিভাগের প্রধান অতনু বিশ্বাসকে আইনি নোটিস পাঠান। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়:

  • প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গোপনীয় চিকিৎসা-নথি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না?
  • যদি নথি হস্তান্তর করা হয়ে থাকে, তবে তা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে করা হয়েছে কি না?

মমতার আইনজীবীর বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির চিকিৎসা-সংক্রান্ত গোপনীয় নথি (Medical Records) সংশ্লিষ্ট রোগীর অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা বেআইনি এবং অধিকারবহির্ভূত। আইনানুগ পদ্ধতি না মেনে তথ্য প্রকাশ করা হয়ে থাকলে দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।

সোমবার বিকেলে নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মমতার আইনি পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, এই নথিপত্র এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয়নি। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ঘটনায় মমতার তরফেই সিআইডি মামলা করা হয়েছিল, এবং সেই সংক্রান্ত সূত্রে নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নবান্নের চোদ্দো তলায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার প্রত্যাশায় অনেক নথিপত্র নিজের ড্রয়ারেই রেখে গিয়েছিলেন। আইনজীবীর আইনি নোটিসের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বা ঘাঁটাঘাঁটি করা ঠিক হবে না; প্রয়োজন পড়লে এক্স-রে (X-Ray) প্লেট ও এমআরআই (MRI) রিপোর্টও প্রকাশ করা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.