প্রথম ম্যাচে ক্যালকাটা কাস্টমসকে হারিয়ে আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল দুই দলই। ফলে বুধবারের ইস্টবেঙ্গল বনাম পঞ্জাব এফসি ম্যাচটি ছিল কেবলই গ্রুপ শীর্ষে শেষ করার লড়াই। সেই লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ০-১ গোলো হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষ স্থান দখল করল পঞ্জাব এফসি। এই হারের ফলে আগামী ২ অক্টোবর সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মুখোমুখি হতে পারে ইস্টবেঙ্গল, যদিও আইএফএ (IFA)-র তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
প্রথমার্ধের লড়াই ও পঞ্জাবের গোল বুধবার ম্যাচের শুরুতে প্রথম একাদশে দুই বিদেশি ক্রিস ইকনোমিডিস ও দিয়েগো জিভুলিচকে রেখে দল সাজান ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। দানি রামিরেজ ও মহম্মদ রশিদকে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার রাফায়েল মেসি বৌলি বর্তমানে পঞ্জাব এফসির হয়ে খেলছেন, তাঁকে কড়া নজরে রেখেছিলেন জিভুলিচ। শুরু থেকে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও পঞ্জাব মূলত লম্বা বলের ওপর ভরসা রাখছিল।
ম্যাচের ২০ মিনিটে পঞ্জাব এফসি বাঁ প্রান্ত ধরে দারুণ আক্রমণ শানে। মেসি বৌলির শট ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপা প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে বিশু শর্মার শট গোলের পাশের জালে লাগে। এর ঠিক পরের মিনিটেই ইস্টবেঙ্গলের রোহিত দানু ইকনোমিডিসের ক্রস থেকে নেওয়া হেডে গোল করতে ব্যর্থ হন, বল বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
ধীরে ধীরে ছোট ছোট পাসে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেয় পঞ্জাব। এর ফলেই আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ডান দিক থেকে মেসি বৌলির বাড়ানো ক্রস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দূরপাল্লার চমৎকার শটে গোল করেন রাপোসো। ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপার পক্ষে সেই শট আটকানো সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের ব্যর্থ চেষ্টা ও লাল কার্ড এক গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতির পর খেলায় ধার বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। আক্রমণভাগে গতি আনতে রোহিত দানুর বদলে পিভি বিষ্ণুকে মাঠে নামান কোচ হাবাস। তবে পঞ্জাবের আঁটসাঁট ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি লাল-হলুদ আক্রমণভাগ। পঞ্জাব মাঝেমধ্যে প্রতিআক্রমণে উঠে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক আগে সংযুক্তি সময়ে (Extra Time) পঞ্জাব এফসি-র ফুটবলার নিখিল প্রভু লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তবে বাকি সময়ে এক জন কম নিয়ে খেললেও পঞ্জাবের ওপর তেমন চাপ তৈরি করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। নির্ধারিত সময়ের শেষে ০-১ ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লাল-হলুদ ব্রিগেডকে।

