আসন্ন পুরভোটের আগে ‘ঘাসফুল’ বা ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে কোনো দলই ছাড়পত্র পেল না। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘তৃণমূল’ দলীয় নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কাদের অধীনে থাকবে— সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনের অন্তত চার মাস সময় লাগবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিধায়কপদ বাতিলের বিষয়ে বিধানসভার স্পিকারকে নির্দিষ্ট কোনো কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেয়নি শীর্ষ আদালত। সব মিলিয়ে আইনি লড়াইয়ের জোড়া মামলায় প্রাথমিক ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)।
নাম ও প্রতীকের স্বত্বাধিকার মামলা
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ‘ফ্রিজ’ বা সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং দলীয় প্রতীক দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবিতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির দীর্ঘ শুনানি হয়। আদালত জানায়:
- নির্বাচন কমিশন আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষের (মমতা শিবির ও ঋতব্রত শিবির) বক্তব্য গ্রহণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সমাপ্ত করবে।
- এরপর কমিশনকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
ফলে আগামী নভেম্বরের সম্ভাব্য পুরভোটে জোড়াফুল চিহ্নের দেখা মিলছে না এবং ২০২৭ সালের শুরুর আগে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই। উল্লেখ্য, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা-অভিষেক শিবিরের প্রার্থীরা ‘ফুটবলার’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেছে।
বিধায়কপদ খারিজ সংক্রান্ত আর্জি
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী ১০ বিধায়কের দলত্যাগ-বিরোধী আইনে বিধায়কপদ খারিজের দাবিতে বিধানসভার স্পিকারের কাছে দরবার করেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়াতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরকাড়া হয়।
তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পিকারকে কোনো বাঁধাধরা সময়সীমা নির্দিষ্ট না করে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ২০২০ সালের এক রায়ের উল্লেখ করে শীর্ষ আদালত আশা প্রকাশ করেছে, স্পিকার সাধারণত স্বাভাবিক নিয়মে তিন মাসের মধ্যে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সুরাহা করবেন। এই মামলায় পৃথক কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আদালত।

