শিক্ষক দিবসের খাওয়া দাওয়াকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে ঘটা অনভিপ্রেত ও হিংসাত্মক ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার কড়া বিবৃতি প্রকাশ করল নবান্ন। ছাত্রদের পাশাপাশি খোদ প্রধানশিক্ষকের আচরণকেও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে রাজ্য সরকার। ভবিষ্যতে যে কোনো অনভিপ্রেত অভিযোগের ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো কঠোর পদক্ষেপ করার আগে জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার শিক্ষক দিবস থাকলেও সেই উপলক্ষে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিলেন শিক্ষকেরা। অভিযোগ, দশম শ্রেণির একদল ছাত্রকে খাবারের হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে—এই ক্ষোভ থেকে তারা প্রথমে শিক্ষকদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং পরবর্তীতে প্রধানশিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইকে আক্রমণ করে। ছাত্রদের এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও মারধরে প্রধানশিক্ষকের কপাল ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।
নবান্নের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মাধ্যমিক শিক্ষা দফতরের ডিআই প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছেন এবং দুই পক্ষেরই আচরণ দুর্ভাগ্যজনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্কুলশিক্ষা দফতর পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এছাড়া, আগামী শুক্রবার স্কুলশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী দীপক বর্মন স্বয়ং ওই স্কুল পরিদর্শন করবেন এবং এলাকার অন্যান্য স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মঙ্গলবারের ওই ঘটনার পর বুধবার স্কুল খুললেও উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা কিছু শিক্ষার্থীর, এবং গোটা চত্বরে থমথমে পরিবেশ বজায় ছিল। স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ডিআই সুজিত সরকার একে স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করে পুরো পরিস্থিতি উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলেছেন। এদিকে হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্ত প্রধানশিক্ষককে দেখে সহকর্মী ও বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠনের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলে কোনো পরিচালন সমিতি না থাকাকেও এই ধরনের বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন কেউ কেউ। তবে এখনও পর্যন্ত স্কুলের তরফ থেকে পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযুক্ত ছাত্রদের চিহ্নিত করে তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি তুলেছেন শিক্ষক সমাজের একাংশ।

