একসময়ের জঙ্গি আতঙ্ক ও নাশকতার ক্ষত ঝেড়ে ফেলে নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা। ২০১৯ সালে সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী হামলার মতো মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি বিজড়িত এই শহরে শনিবার রাতে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ অন্য চিত্র। দীর্ঘ তিন দশক ধরে বন্ধ থাকা নৈশকালীন জীবনযাত্রা বা ‘নাইটলাইফ’ ফিরিয়ে এনে স্থানীয় ‘রয়্যাল প্রিমিয়ার লিগ’-এর ফাইনাল ম্যাচ দেখতে সারা রাত জেগে উল্লাসে মাতল পুলওয়ামার আমজনতা।
শনিবার রাতে পুলওয়ামার স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। খেলায় করা প্রতিটি রান, উইকেট এবং বাউন্ডারিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন গ্যালারির দর্শকেরা। এমনকি স্টেডিয়ামে জায়গা না পেয়ে বাইরে রাস্তায় ভিড় জমান শত শত মানুষ, যার জেরে তৈরি হয় যানজট। কাশ্মীরের এই জনবহুল শহর একসময় জঙ্গি কার্যকলাপ এবং পাথর ছোড়ার ঘটনার জন্য কুখ্যাত হলেও, আজকের দিনে তা উপত্যকার ক্রীড়ার রাজধানী হয়ে ওঠার পথে। স্থানীয়দের মতে, গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই প্রিমিয়ার লিগের কারণে দিনের আলোর চেয়ে রাতের বেলায় রাস্তায় মানুষের আনাগোনা অনেক বেশি দেখা গিয়েছে।
উপত্যকার ১০টি শীর্ষস্থানীয় ক্লাবকে নিয়ে আয়োজিত এই ‘রয়্যাল প্রিমিয়ার লিগ’-এর নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় গায়ক ইরফান সরকারের একক প্রচেষ্টা। গত বছর দিন-রাতের ম্যাচ সহ এই টুর্নামেন্ট চালুর পর এ বছর এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস সংক্রান্ত আশঙ্কা কাটিয়ে পুলওয়ামায় এই টুর্নামেন্ট সফল করা সহজ না হলেও, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় তা সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। অনন্তনাগে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা ও তিন হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের মতো কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়েই এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মধ্যরাতে জমজমাট লড়াইয়ের পর শ্রীনগরের ‘রয়্যাল গুডউইল’ দল ট্রফি জয় করলেও, এই বিজয়ের আসল অর্থ পুলওয়ামার ঘুরে দাঁড়ানো। স্থানীয়দের মনে ভয়ের মেঘ কেটে ক্রিকেটই যে আজ উপত্যকায় ফেরার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে, শনিবারের এই উদ্যাপন তারই এক অনন্য ইতিহাস হয়ে রইল।

