পূর্ব বর্ধমান জেলায় নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক একুশ বছরের যুবতীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। এই ঘটনায় খুনের অভিযোগে ওই রিহ্যাবের মালিককে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।
কাটোয়ার একটি আবাসনের বাসিন্দা ওই যুবতীকে গত ২৩ জুন বর্ধমানের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আবাসিক হিসেবে রাখার জন্য রিহ্যাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মাসে ২৪ হাজার ৫০০ টাকার চুক্তি হয়েছিল এবং মেয়ে কবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে, সেই আশায় দিন গুনছিলেন তাঁরা।
পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে যুবতীকে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি, সম্প্রতি পরিবারের লোকজন রিহ্যাবে ফোন করলে কর্মীরা জানান যে মেয়েটি ভালো আছে। কিন্তু গত ২৫ জুন রাত ১০টার দিকে পরিবারের কাছে ফোন আসে যে যুবতীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁকে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই খবর পেয়ে রোগিণীর বাবা-মা ও দাদা গাড়ি ভাড়া করে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন এবং পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে গিয়ে স্ট্রেচারে যুবতীর মৃতদেহ দেখতে পান। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান যে অনেক আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রিহ্যাব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। তাঁদের দাবি, যুবতীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল, পরনের পোশাক ছিল ছেঁড়া এবং নাক ও থুতনি দিয়ে রক্ত গড়াচ্ছিল। শুধু তাই নয়, তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় নির্যাতন চালিয়ে ওই যুবতীকে খুন করা হয়েছে—এই মর্মে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বর্ধমান থানার পুলিশ। রবিবার সায়ন্তন কোলে নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক। সোমবার ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

