কলকাতা লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল ইস্টবেঙ্গল। আগের ম্যাচে কালীঘাটকে হারানোর পর বৃহস্পতিবার খিদিরপুর ক্লাবকে ২-০ গোলে পরাজিত করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মাঠে নেমেও নিজেদের জয়ের সিলসিলা ধরে রাখতে সফল হলো দলটি।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র
এই জয়ের ফলে ‘গ্রুপ এ’-তে নিজেদের দ্বিতীয় স্থান আরও পোক্ত করল ইস্টবেঙ্গল। টুর্নামেন্টে আটটি ম্যাচ খেলে তাদের সংগ্রহ এখন ২০ পয়েন্ট। অন্যদিকে, দুটি ম্যাচ বেশি খেলে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভবানীপুর ক্লাব। তবে ইস্টবেঙ্গল তাদের হাতে থাকা ম্যাচগুলোতে জয় তুলে নিতে পারলে পয়েন্ট তালিকায় ভবানীপুরকে টপকে শীর্ষে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, আট ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও গোলদাতারা
বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুই অর্ধে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে লাল-হলুদ খেলোয়াড়রা:
- প্রথমার্ধ: ম্যাচের ২৭ মিনিটের মাথায় খিদিরপুরের বক্সের ভেতরে সুযোগ বুঝে বল পেয়ে যান আকাশ হেমব্রম। তাঁর একটি জোরালো শট খিদিরপুরের জালে জড়িয়ে যায়, যার ফলে ১-ه গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
- দ্বিতীয়ার্ধ: ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মহম্মদ বিলাল।
- এছাড়াও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি পেনাল্টি পেয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু রবি দাসের শট আটকে দিয়ে খিদিরপুরকে বড় ব্যবধানের হার থেকে রক্ষা করেন দলটির গোলকিপার অর্ণেন্দু দত্ত।
মেহতাব হোসেনের অনুভূতি ও ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক ফর্ম
খিদিরপুর ক্লাবের বর্তমান কোচ মেহতাব হোসেন দীর্ঘ দিন ফুটবলার হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছেন। প্রাক্তন ক্লাবের বিপক্ষেই এদিন কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ অনুভূতির ছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে কলকাতা লিগের ডার্বি ম্যাচের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে ফিটনেসের দিক থেকে এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গল অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়টা দারুণ কাটছে লাল-হলুদ শিবিরের। কিছুদিন আগেই মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তার আগে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু (AFC Champions League Two)-এর প্লে-অফ পর্বে কুয়েতের আল আরবিকে হারিয়ে মূল গ্রুপ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল তারা। বর্তমানে কলকাতা লিগেও তাদের পারফরম্যান্স দেখে স্পষ্ট যে, দলটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ‘সুপার সিক্স’-এর দিকে এগিয়ে চলেছে।

