‘দুধ ফুটুক বা পকোড়া ভাজা, ফুটপাত দখল বরদাস্ত নয়’, অবস্থানে অনড় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

‘দুধ ফুটুক বা পকোড়া ভাজা, ফুটপাত দখল বরদাস্ত নয়’, অবস্থানে অনড় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

পার্কস্ট্রিটের ফুটপাতে স্টোভে শিশুর দুধ গরম করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে নিজের অবস্থানে অনড় রইলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোলে একটি বিধায়ক (MLA) কাপের উদ্বোধনে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পথচারীদের হাঁটার জায়গায় কোনোভাবেই জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে বিরোধীদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি সিপিএম আমলের ‘অপারেশন সানশাইন’-এর প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

কী বললেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল?

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করার পর, যেখানে পার্কস্ট্রিটের ফুটপাতে এক মহিলাকে স্টোভে শিশুর দুধ গরম করতে দেখা যায় এবং মন্ত্রীর রোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।

এই প্রসঙ্গে আসানসোলে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলেন,

“ফুটপাতে স্টোভ জ্বালিয়ে দুধ গরম করা বা ৬ মাসের বাচ্চাকে ব্যস্ত রাস্তার পাশে ফেলে রাখা চরম বিপজ্জনক। আজ দুর্ঘটনা ঘটলে এই বিরোধীরাই সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাত। বাচ্চার দুধ ফুটুক বা খিচুড়ি কিংবা পকোড়া ভাজা হোক, পথচারীদের হাঁটার জায়গায় এসব বরদাস্ত করা হবে না।”

অগ্নিমিত্রার আরও অভিযোগ, গত ৫০ বছর ধরে বেআইনি দখলদারি ও তোলাবাজিতে শহরগুলো স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। সরকার যখন শহরকে জ্যামমুক্ত, সুন্দর করতে এবং অনলাইন পার্কিংয়ের মতো আধুনিক ব্যবস্থা আনতে সচেষ্ট, তখন তৃণমূল ও সিপিএম এই নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিপিএম আমলের ‘অপারেশন সানশাইন’-এর সময় তাদের মানবিক মুখটি ঠিক কোথায় ছিল?

শমীক ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনা ও বিতর্ক প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, তিনি বিষয়টি এখনও দেখেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, এই ঘটনার পর রবিবার পার্কস্ট্রিটে গিয়ে খোদ সেই মহিলার সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ফুটপাত জবরদখলমুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করলেও এই বিষয়ের একটি ‘মানবিক দিক’ থাকা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

কুণাল ঘোষ বলেন,

“আমরা একশোবার ফুটপাত পথচারীদের জন্য ফ্রি রাখার পক্ষে। ফুটপাত জবরদখলমুক্ত হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে তার একটি মানবিক মুখও থাকা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, বাচ্চা নিয়ে ফুটপাতে বসে থাকা মানুষগুলো কেউ শখে বা স্বেচ্ছায় সেখানে থাকেন না। বৃষ্টি-বাদলের মধ্যে রাস্তায় এসে দুধ গরম করার ইচ্ছে কারও থাকে না। তাই আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি তুলে তিনি জানান, ফুটপাত যেমন মানুষের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার, তেমনই গরিব মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়টিও মানবিক ভাবে বিবেচনা করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.