বর্ষা মরশুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি বাড়ছে পেটের গণ্ডগোল, গ্যাস-অম্বল, বুকজ্বালা কিংবা হজমের সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে আবহাওয়ার আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং খাওয়াদাওয়ায় অসতর্কতার কারণে সহজেই খাদ্যে বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) ও পেটে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। লাগাতার পেটের এই অস্বস্তি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধাপে ধাপে দুর্বল করে তোলে। তবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু সচেতক পরিবর্তন আনলে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) এবং পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, বর্ষাকালে যে খাবারগুলি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়:
- আর্ধেক সেদ্ধ বা কাঁচা মাংস: মুরগি কিংবা রেড মিট ভালোভাবে সেদ্ধ না হলে তাতে সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। বর্ষায় গ্রিল বা তন্দুরিজাতীয় খাবারে অনেক সময় ভেতরের অংশ কাঁচা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কড়াইতে ভালোভাবে কষিয়ে বা ফুটিয়ে রান্না করা মাংস খাওয়াই নিরাপদ।
- কাঁচা বা কম সেদ্ধ ডিম: হাফ-বয়েল ডিম, ডিমের পোচ কিংবা বাড়িতে কাঁচা ডিম দিয়ে তৈরি মেয়োনিজ থেকে বর্ষায় পেটের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, এই সময়ে কুসুমসহ ডিম সম্পূর্ণ সেদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত।
- সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য: বর্ষাকাল সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রজনন সময়। ফলে এই সময় তাদের শরীরে ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেশি থাকে। তাই কাঁচা মাছ বা ঝিনুক দিয়ে তৈরি খাবার যেমন—সুশি কিংবা খোসাযুক্ত জলজ প্রাণী (চিংড়ি, কাঁকড়া, স্কুইড) এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।
- অপাস্তুরিত দুধ ও চিজ: পাস্তুরায়ন না করা দুধ এবং প্রসেস না করা নরম চিজের মধ্যে ‘লিস্টেরিয়া’ নামক বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে, যা পেটের তীব্র সংক্রমণের কারণ হয়।
- দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা বা বাসি খাবার: ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রান্না করা ভাত, নুডলস বা পাস্তা অনেকক্ষণ ফেলে রাখলে তাতে দ্রুত ব্যাক্টেরিয়া ছড়ায়। ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার খাওয়ার আগে অত্যন্ত ভালোভাবে গরম করে নেওয়া জরুরি, অন্যথায় তা পরিত্যাগ করাই ভালো।
- কাঁচা সবজি ও কাটা ফল: স্যাল্যাডে ব্যবহৃত কাঁচা শাকসবজি ভালো করে না ধুলে তা থেকে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি, রাস্তার পাশে উন্মুক্ত অবস্থায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল বা বাড়িতে না ধুয়ে ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

