কলম্বো টেস্টের আগে চর্চায় গলের অলৌকিক যুদ্ধ: কীভাবে পাঁচ মিনিটে মাঠ ঢেকে বৃষ্টিকে হারাল ১৩০ কর্মীর দল

কলম্বো টেস্টের আগে চর্চায় গলের অলৌকিক যুদ্ধ: কীভাবে পাঁচ মিনিটে মাঠ ঢেকে বৃষ্টিকে হারাল ১৩০ কর্মীর দল

গলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে ভারত। ঐতিহাসিক ৬০০তম টেস্টে দলীয় পারফরম্যান্সে জয় নিশ্চিত হলেও আপাতত ক্রিকেট বিশ্বের চর্চায় উঠে এসেছে গলের মাঠকর্মীদের এক অভাবনীয় তৎপরতার কাহিনি। প্রবল বর্ষণের হাত থেকে মাঠ রক্ষা করতে মাত্র পাঁচ মিনিটে ৩০০টি টায়ার ও ৬৫০ কেজি ওজনের ২৮টি বিশালাকার কভার দিয়ে পুরো মাঠ ঢেকে ফেলার অসাধ্য সাধন করেছেন ১৩০ জন কর্মীর একটি সুসংগঠিত দল।

উপকূলীয় শহর গলে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে থেকেই বৃষ্টির নিয়মিত দাপট ছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের ১৬ জন স্থায়ী মাঠকর্মীর সাথে হাম্বানটোটা থেকে আসা ১০ জন অস্থায়ী কর্মী এবং দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে আরও শতাধিক কর্মী নিয়োগ করা হয়। এসএলসি (SLC)-র প্রতিনিধি মঞ্জুলা জানান, গলে খেলা থাকলে দৈনিক ২৫০০ থেকে ৪০০০ শ্রীলঙ্কান রুপি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭২৫ থেকে ১১৬১ টাকা) পারিশ্রমিক চুক্তিতে স্থানীয় কর্মীদের যুক্ত করা হয়।

ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসের অভিনব কৌশল

আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলের প্রকৃতি দেখেই বৃষ্টির পূর্বাভাস আঁচ করেন এই মাঠকর্মীরা। গলে দুর্গের পাশ দিয়ে ভারত মহাসাগরের ওপর মেঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেই তাঁরা আগাম প্রস্তুতি নেন। মঞ্জুলা জানান, “মেঘ জমতে দেখলেই আমরা প্রস্তুত হয়ে যাই। প্রথমে পিচ, তারপর স্কোয়ার, বোলারদের রান-আপ এবং সবশেষে পুরো আউটফিল্ড—ঠিক এই নির্দিষ্ট ক্রম অনুসারেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংকেত পেলেই কভার টানা শুরু হয়।” পুরো দলটি এমন একটি সমন্বয়ে কাজ করে যাতে দ্রুততার সাথে কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ভারী কভার ও বাতাসের চ্যালেঞ্জ জয়

মাঠ ঢাকার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠিন এবং শারীরিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং। জানা গিয়েছে, ১০০ বাই ১০০ ফুট পরিমাপের প্রতিটি কভারের টুকরোর ওজন ৬৫০ কেজিরও বেশি। পুরো স্টেডিয়াম ঢাকতে এই ধরণের মোট ২৮টি ভারী কভার ব্যবহার করা হয়। এর সাথে যোগ হয় সমুদ্র তীরবর্তী তীব্র আড়াআড়ি বাতাস। হাওয়ার দাপটে ভারী কভার যাতে উড়ে না যায়, তার জন্য অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কভারের ওপর বসানো হয় ৩০০টিরও বেশি বিশেষ রাবারের টায়ার।

তীব্র গতিতে আসা হঠাৎ বৃষ্টি থেকে আউটফিল্ডকে রক্ষা করাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে অতি নিখুঁত ও পরিকল্পিত উপায়ে পুরো মাঠ ঢেকে দিয়ে পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই ১৩০ জন কর্মী।

এদিকে গলের ম্যাচ শেষে এবার দুই দলের দৃষ্টি কলম্বোর এসএসসি (SSC) ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। আগামী ২৩ অগস্ট থেকে শুরু হতে চলেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট ম্যাচ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.