দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের মুখোমুখি হয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে হয়েছিল ভারতীয় দলকে। জোড়া সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছিল—ভারতীয় ব্যাটাররা কি তবে স্পিন খেলার দক্ষতা হারিয়ে ফেলছেন? তবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সেই সমস্ত সমালোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিল শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন ভারত। গলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার করেছেন লোকেশ রাহুলেরা।
প্রথম টেস্টে দাপুটে জয়ের পর ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক কেএল রাহুল জানান, যেভাবে তাঁরা শ্রীলঙ্কা সফরের সূচনা করেছেন তাতে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। রাহুল বলেন, “আমি বলব না যে সম্পূর্ণ হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছি, তবে এই জয়ে সত্যিই খুশি। বহু বছর পর আমরা শ্রীলঙ্কায় টেস্ট খেলতে এসেছি, আর আমাদের দলের অনেকেই আগে এখানে খেলেনি। তা সত্ত্বেও সিরিজের প্রথম ম্যাচের প্রতিটি বিভাগেই আমরা নিজেদের দাপট বজায় রাখতে পেরেছি।”
এই জয় দলকে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন লাল বলের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তিনি উল্লেখ করেন, “এই জয় আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। কলোম্বোয় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নামার আগে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকব। এছাড়া সামনেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের একটি বড় টেস্ট সিরিজ রয়েছে, যার দারুণ প্রস্তুতি এখানে হয়ে যাচ্ছে।”
বিগত কয়েক বছরে স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের দুর্বলতা বারবার প্রকট হয়ে উঠেছিল। শ্রীলঙ্কার ঘূর্ণি সহায়ক উইকেটে ব্যাটারদের এমন পারফর্ম্যান্স সেই ভীতি ও অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করবে বলে দাবি রাহুলের। তিনি বলেন, “স্পিন-সহায়ক উইকেটে রান করা সবসময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ। দেশের মাটিতে আমাদের বেশ কিছু সমস্যা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এখানে আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। শ্রীলঙ্কার উইকেটে মানসম্পন্ন স্পিনারদের বিপক্ষে রান তোলা মোটেও সহজ কাজ নয়, আর আমরা সেটা করতে পেরেছি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি দিচ্ছে।”
সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে সঠিক প্রস্তুতি ও মানসিকতার কথাই বারবার তুলে ধরেন কেএল রাহুল। তাঁর সংযোজন, “প্রস্তুতিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। এটা সত্য যে সবসময় সাফল্য আসবে না, কিন্তু সঠিক প্রক্রিয়ায় চেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন সাফল্য মিলবেই। ভারতীয় দলের প্রতিটি ক্রিকেটারই এই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে।”

