তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ড: ধৃত হোটেল মালিক ও তাঁর ছেলে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে, বন্ধের নির্দেশে ১৫টি হোটেল

তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ড: ধৃত হোটেল মালিক ও তাঁর ছেলে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে, বন্ধের নির্দেশে ১৫টি হোটেল

বীরভূমের তারাপীঠের বেসরকারি হোটেল ‘বিদেশিনী’তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের মালিক প্রবীর পাল ও তাঁর ছেলে কল্যাণ আশিস পালকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠাল রামপুরহাট মহকুমা আদালত। সোমবার ভোরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৯ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে গতি আনার পাশাপাশি নিরাপত্তা বিধিতে চরম গাফিলতির অভিযোগে তারাপীঠের আরও ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

আদালতে পেশ ও নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরি

হোটেলটির অগ্নিকাণ্ডের রাতেই মালিক ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করে তারাপীঠ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের রামপুরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করে তদন্তের স্বার্থে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। শুনানির পর বিচারক ধৃতদের ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন।

ঘটনার সময়ে হোটেলে ৪৩ জন আবাসিক উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার পাওয়া ২৮ জনের মধ্যে ৭ জন বর্তমানে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একাধিক ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ থাকায়, তাঁদের সন্ধানে মঙ্গলবার হোটেল লাগোয়া পুকুরে নামানো হয় ডুবুরি। কেউ আতঙ্কে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

নিহতদের পরিচয়

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শিশু ও নারীসহ মোট ৯ জন:

  • মেঘালয়ের পরিবার (৫ জন): সাউথ গারো হিল্‌সের শিববাড়ি গ্রাম থেকে আসা রাজেন্দ্র নাথ, তাঁর স্ত্রী আশা নাথ, ৮ বছরের পুত্র ঔষনাথ মদক এবং একই পরিবারের বুরান মদক ও তাঁর ১০ বছরের পুত্র শিবরাজ মদক।
  • আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা (৩ জন): কমল রায়, অমিত পাল ও সুবীর সাহা।

নিয়ম লঙ্ঘনে কড়া প্রশাসন, গঠিত ৫টি স্পেশাল টিম

ঘটনার পর রামপুরহাটের মহকুমাশাসক রাঠৌর অশ্বিন বাবু সিংহ জানান, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় এবং সরকারি নিয়ম না মানায় ইতিমধ্যেই ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও একাধিক নোটিস পাঠানো হলেও তারা সহযোগিতা করেনি।

পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:

  • দমকল, বিদ্যুৎ দফতর, পূর্ত দফতর ও পুলিশের সমন্বয়ে ৫টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
  • আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই টিমগুলি তারাপীঠের সমস্ত হোটেলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অডিট করবে।
  • আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যার আগেই হোটেলের কর্মীদের অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও মক ড্রিল (Mock drill)-এর ব্যবস্থা করা হবে।

অগ্নিসংযোগের কারণ ও গাফিলতির অভিযোগ

প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট এবং অন্দরসজ্জায় ব্যবহৃত অতি দাহ্য ফাইবারের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। জরুরি বহির্গমনের পথ থাকলেও আলো না থাকায় ও ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় পথ খুঁজে পাননি আবাসিকরা। এই দুর্ঘটনার পর দমকলের ছাড়পত্র প্রদান ও অডিট প্রক্রিয়ার সত্যতা নিয়ে উঠেছে তীব্র প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.