ভারতীয় ক্রিকেটারদের ঘন ঘন চোট আঘাতের সমস্যাকে কেন্দ্র করে বোর্ডের ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ (সিওই)-এর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে সিওইর প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন। এমনই এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সিওইর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন ২৪ বছর বয়সী তরুণ স্পিনার মানব সুতার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে প্রথম ইনিংসে ৪টি উইকেট নেওয়ার সাফল্যকে তিনি বিসিসিআই-এর এই উন্নত পরিকাঠামোর অবদান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে সিওইতে বিশেষ অনুশীলন পর্ব শেষ করেন সুতার। শ্রীলঙ্কায় কোকাবুরা বলে টেস্ট খেলা হয় বলে, সেখানে ১০ দিন ধরে কোকাবুরা বলে টানা বোলিংয়ের সুযোগ পান তিনি। সোমবার ম্যাচের পর সুতার জানান, “আফগানিস্তান টেস্টের পর সিওইতে কোকাবুরা বলে অনুশীলন করেছিলাম। মাঠে একদম সাধারণ পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলাম—সঠিক লেংথ, সঠিক লাইন ও মানানসই গতি বজায় রাখা। যেহেতু উইকেটে বাউন্স ছিল, তাই সঠিক লাইনে বল করাটা অত্যন্ত জরুরি ছিল।”
ম্যাচের কৌশল সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই যতটা সম্ভব উইকেট তুলে নেওয়া। মাঝের দুই ঘণ্টায় আমরা উইকেট না পেলেও, শেষ দুই ঘণ্টায় ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বল করার সুফল পেয়েছি।”
আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের এই পারফরম্যান্সের পেছনে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার অমূল্য পরামর্শের কথা স্বীকার করেছেন মানব সুতার। প্রথম বলেই উইকেট পাওয়ায় তাঁর আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।
জাদেজার প্রভাব সম্পর্কে সুতার বলেন, “জাডেজার কাছ থেকে আমার শেখার অনেক কিছু রয়েছে। ওঁর বিশ্বমানের ধারাবাহিকতা এবং ক্রিজকে চমৎকারভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা অসাধারণ। উনি যেভাবে টানা স্টাম্পের লাইনে বল করে ব্যাটারকে ব্যাকফুটে রাখেন, আমি সেটাই আয়ত্ত করতে চাই। ব্যাটার যতক্ষণই ক্রিজে থাকুন না কেন, প্রতিটা বলে তাঁকে শট খেলতে বাধ্য করলে তবেই ভুল করার সুযোগ বাড়ে। এই ধরনের মানসিকতা এবং নিয়ন্ত্রণ জাদেজার বোলিংয়ের মূল শক্তি, যা আমি প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করছি।”

