গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার কারণে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তৈরি হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আলিপুরে ৪৪ মিলিমিটার, ডায়মন্ড হারবারে ৮৪ মিলিমিটার এবং মেদিনীপুরে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন রাজ্য জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
নিম্নচাপের গতিপথ ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
সোমবার বিকেলের বুলেটিন অনুযায়ী, নিম্নচাপটি শান্তিনিকেতনের দক্ষিণে অবস্থান করছিল, যা পুরুলিয়ার ১৩০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং বাঁকুড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিবেগে অগ্রসর হয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এটি ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে এগিয়ে যাবে।
মঙ্গলবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম—এই ছয়টি জেলায় ভারী বর্ষণের (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে নিম্নাঞ্চলে জল জমে যানজট ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী বুধবার থেকে রোববার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার উত্তরবঙ্গের বাকি পাঁচ জেলাতেও ঝোড়ো হাওয়া ও ঝড়বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমতে পারে।
সতর্কতামূলক বার্তা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা
ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা গাছের তলায় আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবহবিদরা। বিদ্যুৎ পরিবাহী খুঁটি বা কাঁচা কাঠামোর কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- শহরাঞ্চলে যানজট: কলকাতা, বিশেষত উত্তর ও মধ্য কলকাতায় যানজটের আশঙ্কায় স্কুল-কলেজ ও অফিসযাত্রীদের হাতে বাড়তি সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা: পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বাংলাদেশ সংলগ্ন সমুদ্রে দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
- উপকূলীয় অঞ্চল: দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে উপকূলে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে।

