ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ রবিবারে ২৩ দিনে পদার্পণ করল। আন্দোলনের ধার বাড়িয়ে রবিবার সন্ধ্যায় রাজ্যের রাজধানী রাঁচীসহ একাধিক স্থানে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল দাহ করেন ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা।
জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি জোট সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ করছে না—এই অভিযোগে এখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন ক্ষোভ প্রকাশকারী ছাত্ররা। আগামী ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করারও ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি:
- সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় সিবিআই (CBI) তদন্ত নিশ্চিত করা।
- বিতর্কিত জেপিএসসি (JPSC) পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করা।
- অনিয়মের বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
সম্প্রতি এই ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের সাথে রাজ্য প্রশাসনের একাধিক বার দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোনো স্পষ্ট সমাধানসূত্র মেলেনি। মূল অমীমাংসিত দাবিগুলি নিয়ে সরকারের অস্পষ্ট অবস্থানের কারণেই ক্ষোভের আগুন তীব্র হচ্ছে।
কংগ্রেসের ওপর চাপ ও রাহুলের বার্তা: সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার দায় তুলে আন্দোলনকারীরা কংগ্রেসের প্রতিও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কংগ্রেস যদি রাজ্য সরকারে থেকে ছাত্রদের সমস্যার সমাধান করতে না পারে, তবে জেএমএম নেতৃত্বাধীন জোট থেকে যেন দ্রুত সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।
ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “জেএমএম এবং কংগ্রেস—দুই দলই আমাদের দাবি নিয়ে রাজনীতি করছে। আমরা আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করব এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।”
যদিও ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভের ইস্যুতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিপূর্বে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সমস্যার অবিলম্বে সমাধান করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন, প্রয়োজনে একবার নয়, বারবার আলোচনার টেবিলে বসে ছাত্রদের আস্থা ফিরিয়ে এনে দ্রুত এই জটিলতা মেটাতে হবে। তবে রাহুল গান্ধীর সেই বার্তার পরেও বাস্তবে কোনো সদর্থক সমাধান না আসায় ক্ষোভ আরও উস্কে গিয়েছে বলে মত আন্দোলনকারী নেতৃত্বের।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে ঘিরে রাঁচী শহরজুড়ে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

