চলতি মাসেই প্রথম ভারত সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জোর তৎপরতা দুই দেশে

চলতি মাসেই প্রথম ভারত সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জোর তৎপরতা দুই দেশে

সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে চলতি আগস্ট মাসের শেষভাগেই ভারত সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই হতে চলেছে তাঁর প্রথম নয়াদিল্লি সফর।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর কূটনৈতিক সূত্র এবং ভারতীয় সংবাদসংস্থা ‘এএনআই’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে এই সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক সফরটি সম্পন্ন হতে পারে। সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে বর্তমানে উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে।

সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, দুই দেশই এই দ্বিপাক্ষিক সফর বাস্তবায়নে অত্যন্ত আগ্রহী। প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে দু’দিনের এই সফরের জন্য আগামী ২০-২১ আগস্ট অথবা ২১-২২ আগস্ট— এই দুটি সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে কিরগিজস্তানে আয়োজিত হতে চলা ‘এসসিও’ (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগদান এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে আগস্ট মাসেই এই সফরটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘ব্রিকস’ (BRICS) সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দিচ্ছেন না— এটি নিশ্চিত হওয়ার পর দুই দেশ আলাদাভাবে এই দ্বিপাক্ষিক সফরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

শেখ হাসিনা বিতর্ক ও কূটনৈতিক সমীকরণ

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং দিল্লি থেকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও শাসকদল বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই ঢাকায় নিয়োজিত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পদভার গ্রহণের পর তারেকের সঙ্গে ত্রিবেদীর এটিই প্রথম বৈঠক ছিল।

ঢাকায় বৈঠকের পরপরই দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। যদিও সেই আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনার সারসংক্ষেপই নরেন্দ্র মোদীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় ত্রিবেদী পুনর্নিয়োগস্থলে ফিরে যান।

সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার এক সাংবাদিক সম্মেলনকে ঘিরে ঢাকার অসন্তোষ প্রকাশ এবং তার জবাবে এটি ভারতের সরকারি বক্তব্য নয় বলে দিল্লির স্পষ্টীকরণের পর তৈরি হওয়া কূটনৈতিক জটিলতা কাটাতে এই সফরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও উভয় দেশের সরকারি পর্যায়ের তরফ থেকে সফর সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, তবে তারিখ নির্ধারণ সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.