ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত নীতি ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন অচলাবস্থার মাঝেই এক নতুন মোড় লক্ষ্য করা গেল। ইনফান্তিনোবিরোধী জোটে ফাটল ধরিয়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপের স্বত্ব সম্পর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দেওয়ার পর এই দুটি দেশের অবস্থান ফিফা সভাপতির জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিতর্কের উৎস ও বয়কটের হুমকি
বিশ্বকাপের মালিকানা বা স্বত্বের ২০ শতাংশ একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করার যে পরিকল্পনা ইনফান্তিনো নিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হয় ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ‘উয়েফা’ (UEFA)। পরবর্তীতে ইউরোপের সাথে অন্য কয়েকটি মহাদেশের ফুটবল সংস্থাও এই প্রতিবাদে যোগ দেয়। প্রবল বিরোধিতার মুখে ইনফান্তিনো তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হলেও জলঘোলা থামেনি।
গত সপ্তাহেই উয়েফা এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তারা পূর্ণ আস্থা হারিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ফিফা আয়োজিত কোনো প্রতিযোগিতায় তারা অংশগ্রহণ করবে কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। আসন্ন অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিশ্বকাপে এই বিরোধী জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
ইনফান্তিনোর পাশে নিউজিল্যান্ড ও ফ্রান্স
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তপ্ত এই পরিস্থিতেও নিউজিল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিশ্বকাপে দল পাঠাবে। এর আগে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্সও একই ঘোষণা দিয়েছিল।
২৪টি দলের এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডের অংশগ্রহণকে ক্রীড়াবিশ্লেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। ইনফান্তিনোবিরোধী জোট যখন ফিফাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন এই দুটি দেশের ইতিবাচক সাড়া ফিফা সভাপতির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানকে কিছুটা হলেও মজবুত করবে।

