লিভারপুল কেনার দৌড়ে ভারতীয় শিল্পপতি, সঙ্গে বেজ়োস-সাভেরিন, চলতি সপ্তাহেই হতে পারে ঘোষণা

লিভারপুল কেনার দৌড়ে ভারতীয় শিল্পপতি, সঙ্গে বেজ়োস-সাভেরিন, চলতি সপ্তাহেই হতে পারে ঘোষণা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব লিভারপুলের মালিকানার একটি বড় অংশ বিক্রি হতে চলেছে। ক্লাবের বর্তমান মালিক সংস্থা ‘ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ’ (এফএসজি)-এর কাছ থেকে শেয়ার ক্রয়ের দৌড়ে সামনের সারিতে উঠে এসেছেন অনাবাসী ভারতীয় শিল্পপতি অমিত ভাটিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।

বিনিয়োগকারী জোট ও চুক্তির বিবরণ বিশিষ্ট শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তলের জামাতা অমিত ভাটিয়ার নেতৃত্বাধীন এই কনসোর্টিয়ামে যুক্ত রয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিন। ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এফএসজি চলতি সপ্তাহেই মালিকানার অংশ হস্তান্তরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে।

সূত্র মারফৎ জানা গেছে, অমিত ভাটিয়ার গোষ্ঠী লিভারপুলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৩.৩৩%) শেয়ার অধিগ্রহণ করতে পারে। এই প্রস্তাবিত চুক্তির আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫৬,২৬০ কোটি টাকা)। এই বিপুল বিনিয়োগ কার্যকর হলে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান ক্লাবগুলির তালিকায় শীর্ষসারিতে নিজেদের স্থান আরও শক্ত করবে লিভারপুল।

বিনিয়োগকারীদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা

  • অমিত ভাটিয়া: ক্রীড়া জগতে ইতিপূর্বেও বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় সারির প্রতিযোগিতা ‘চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ক্লাব কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সে (QPR) তাঁর অংশীদারিত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরেই লক্ষ্মী মিত্তলের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালসের ৭৫ শতাংশ মালিকানা অধিগ্রহণ করেছে।
  • জেফ বেজোস: আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (NFL) দল কেনায় অতীতে আগ্রহ দেখালেও, এই প্রথম কোনো পেশাদার ফুটবল ক্লাবে অর্থ বিনিয়োগ করতে চলেছেন তিনি।
  • এদুয়ার্দো সাভেরিন: চার বছর পূর্বে ইপিএলের আরেক দল চেলসি ফুটবল ক্লাব কেনার জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।

ক্লাবের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ২০১০ সালে লিভারপুল ক্লাবের সার্বিক মালিকানা অধিগ্রহণ করেছিল মার্কিন সংস্থা এফএসজি। শেয়ারের একটি অংশ হস্তান্তর করা হলেও ক্লাবের মুখ্য প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এফএসজি-র হাতেই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত কয়েক মাস ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর চুক্তিটি এখন চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.