মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক (PA) চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় আদালত এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি ঘটিয়ে চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। চার্জশিটে মোট ১১ জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) সূত্রে জানা গেছে, চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া বিজেপি কর্মী দুই ভাই—সাগর সোনকর ও সাহেব সোনকরও রয়েছেন।
গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ফলে ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মদত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুনের পরিকল্পনা ও ছক
সিবিআই-এর তদন্তে উঠে এসেছে যে, চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার ষড়যন্ত্র কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং দীর্ঘ সময় ধরে এর নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল।
- দীর্ঘমেয়াদি চক্রান্ত: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই চন্দ্রনাথকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়। দিনক্ষণ বারবার ঠিক হলেও নানা কারণে একাধিকবার তা পিছিয়ে যায়।
- ভাড়াটে খুনির ব্যবহার: কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত দুই ভাই সাগর ও সাহেব সোনকর উত্তরপ্রদেশ থেকে ভাড়াটে খুনিদের (Shooters) বন্দোবস্ত করেছিলেন। তাঁরাই খুনের সুপারি দেওয়া থেকে শুরু করে টাকা লেনদেনের বিষয়টি পরিচালনা করেন।
- অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়: চার্জশিটে উল্লিখিত দুই ভাই ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। এর আগে তাঁরা অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিরোধী দলের এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেফতার ও অভিযুক্তদের তালিকা
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক দুই দিন পর, গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। সিবিআই এই মামলায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন মূল অভিযুক্ত ও সহায়কদের হেফাজতে নিয়েছে:
- শুটার (৬ জন): মনু সিংহ, রাজ সিংহ, গোলু সিংহ, ময়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীন কুমার সিংহ।
- মিডলম্যান বা মধ্যস্থতাকারী (৩ জন): বিনয় রায়, সঞ্জয় রায় এবং বিকাশ মিশ্র (যাঁরা খুনের সুপারি লেনদেনে মধ্যস্থতা করেছিলেন)।
- মূল চক্রান্তকারী (২ জন): সাগর সোনকর ও সাহেব সোনকর।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাঁকে গ্রেফতার করতে জোর তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
অধরা খুনের প্রকৃত উদ্দেশ্য
ভোটের বহু আগেই চন্দ্রনাথকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল বলে সিবিআই নিশ্চিত করলেও, ঠিক কী উদ্দেশ্যে বা রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁকে হত্যা করা হলো, সেই মূল কারণ (Motive) এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিললেও এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক মাথার ইন্ধন ছিল কি না, তা উদ্ঘাটন করাই এখন সিবিআই-এর প্রধান লক্ষ্য।

