সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের তরুণ প্রজন্মের উপর ঘটে যাওয়া আক্রমণের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিবাদরত তরুণদের ‘দেশদ্রোহী’ বলা অনুচিত এবং বর্তমান প্রজন্ম দেশের প্রতি অত্যন্ত সৎ।
বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে ‘ইন্ডিয়াজ় ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশন্স’-এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে দেশের ১০০টি শহরের ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ২,০০০ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন মোহন ভাগবত। সেখানে আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা, শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ ও প্রতিবাদের অধিকার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন শাসকদল বিজেপির একাধিক নেতা আন্দোলনকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়ার এবং বিদেশি আর্থিক মদতের অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তরে এই অভিযোগ খারিজ করে সঙ্ঘপ্রধান বলেন, “তরুণ প্রজন্ম প্রতিবাদ করলেই তারা দেশদ্রোহী হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই পরবর্তী প্রজন্ম। সাম্প্রতিক ঘটনায় তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগ সম্পূর্ণ ন্যায্য এবং তারা যে প্রশ্নগুলি তুলেছে, তার যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি আজকের প্রজন্ম আমাদের প্রজন্মের চেয়ে বেশি সৎ। তাদের মধ্যে দেশভক্তি ও দেশসেবার প্রকৃত মনোভাব রয়েছে।”
দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে সঙ্ঘপ্রধান জানান, তিনি ঘটনার সব বিস্তারিত তথ্য এখনও জানেন না। তবে যদি চোখ বন্ধ করে কাউকে বিশ্বাস করতে হয়, তিনি আজকের তরুণ প্রজন্মের ওপরই ভরসা রাখবেন।
তবে প্রতিবাদের পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করে তিনি জানান, গণতন্ত্রে প্রতিবাদের নিজস্ব নিয়ম রয়েছে। আগের প্রজন্ম বড়দের কথা শুনলেও বর্তমান প্রজন্ম অন্ধভাবে মেনে না নিয়ে যুক্তি চায়।
শিক্ষাবাজেট ও কর্মসংস্থান ভাবনা দেশের শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে ওঠা উদ্বেগগুলির সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার পক্ষে সওয়াল করেন মোহন ভাগবত। তিনি জানান:
- শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, সেখানে সমাজকেও অবদান রাখতে হবে।
- শুধুমাত্র চাকরি-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; কর্মসংস্থান বলতে উদ্যোক্তা (Entrepreneurship) হওয়াকেও বোঝায়।
সামাজিক অধিকার প্রসঙ্গে মত শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষ্যেও বার্তা দেন আরএসএস প্রধান। সমপ্রেমী ও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের ভারতীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তাঁদের সমাজচ্যুত বা একঘরে করে রাখা অনুচিত। বরং তাঁরা যাতে একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা করা উচিত।

