অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনার বকেয়া ভাতা প্রদান এবং আবেদনপত্র যাচাইকরণের অগ্রগতি নিয়ে রাজ্য সরকারের স্পষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো শুরু হবে।
আবেদন যাচাই ও প্রথম কিস্তির সুবিধা প্রদান
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় মোট ২ কোটি ১৬ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। বর্তমানে আধিকারিকেরা নথি ও তথ্যের নিখুঁত যাচাইকরণ (Verification) প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন। আবেদনকারীদের সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না এবং তাঁরা নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এই যাচাইপ্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তবে প্রথম দফায় সকলেই এই সুবিধা পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আগামী ১৭ আগস্ট কেবল তাঁদের অ্যাকাউন্তেই টাকা পাঠানো হবে, যাঁদের আবেদন ১০ জুলাই বা তার আগে জমা পড়েছে এবং যাচাইকরণে কোনও ভুলত্রুটি ধরা পড়েনি। অন্যদিকে, ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা পড়া আবেদনপত্রের যাচাইকরণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় তাঁদের অর্থ পেতে কিছুটা বিলম্ব হবে।
মানদণ্ড ও ভবিষ্যৎ সূচি
প্রকল্পের নিয়মাবলী সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান:
- বয়সসীমা ও ভাতার পরিমাণ: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন।
- পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠক: কারা সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং কারা বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে আগামী ১০ আগস্ট দুপুর ২টোয় মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী মালতি রাভা রায় যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে বিশদে জানাবেন।
- নিয়মিত কিস্তি: প্রথম মাসের জন্য ১৭ আগস্ট টাকা দেওয়া হলেও, পরবর্তী মাস থেকে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত অর্থ পৌঁছে যাবে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত এই ভাতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়ো খবর সম্পর্কে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাঁরা এই ধরনের ভুয়ো পোস্ট করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সরকার পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ করে নুর আলম ও মেহবুব নামে দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, তাঁরা মহিলাদের দিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন করাচ্ছেন।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর বকেয়া হিসাব
সরকারের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের অনিয়মিত অর্থ প্রদানের একটি হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১.৫২ কোটি মানুষকে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার পর কয়েক মাস সুবিধা প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে ২১.৮৪ লক্ষ জনকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের টাকা একযোগে দেওয়া হয় এবং জুলাই মাসে ৩.৭৭ লক্ষ জনকে মে ও জুন মাসের বকেয়া মেটানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারি অর্থ বণ্টনে আমরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলি। জুন মাস থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইনে প্রাপ্ত সমস্ত আবেদনের নিখুঁত তথ্য যাচাই করেই যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হচ্ছে।”

