পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আগুনে নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল আমেরিকা। জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং মিশরের বন্দরে সাম্প্রতিক ড্রোন আক্রমণের জবাবে বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সামরিক অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের সূত্রানুসারে, দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানের একাধিক এলাকা লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেশম দ্বীপে আমেরিকার হামলায় দুই বছরের এক শিশুসহ অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এই আক্রমণের কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
হামলার পটভূমি ও কারণ
মার্কিন বাহিনীর দাবি, জর্ডনের সেনাঘাঁটিতে হামলা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা অর্থাৎ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের জবাব দিতেই এই প্রত্যাঘাত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার মিশরের একটি বন্দরে ইরান ড্রোন হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র মিশর দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতে এই প্রথম মিশর আক্রান্ত হলো, যেখানে ড্রোন হামলায় একটি বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরের দিনই ইরানে হামলার মাত্রা এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল আমেরিকা।
ভেস্তে যাওয়া যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান উত্তেজনা
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু জুন মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। হরমুজ প্রণালীতে একাধিক পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের আক্রমণের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যার জবাবে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাটিকে নিশানা করতে শুরু করে।
কয়েক দিন বিরতির পর মঙ্গলবার জর্ডনের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড। এরপরই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর পদক্ষেপের হুঙ্কার দেন। সেই নির্দেশ অনুসারেই বৃহস্পতিবার আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেনাঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলিতে তীব্র আঘাত হেনেছে। আমেরিকার এই প্রত্যাঘাতের ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অস্থিরতার দিকে মোড় নিল।

