বীরভূমে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার: দুবাই থেকে পাচারের সন্দেহ, মিনার মণ্ডল ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে

বীরভূমে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার: দুবাই থেকে পাচারের সন্দেহ, মিনার মণ্ডল ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে

অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের তুতো ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদের উৎস নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল। সরকারি আইনজীবীর দাবি, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সোনা দুবাই ও সুইৎজারল্যান্ড সহ একাধিক বিদেশ থেকে বেআইনিভাবে চোরাচালান করে আনা হয়ে থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সিউড়ি আদালতে এই তথ্য জানিয়ে মিনারকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। বিচারক দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত মিনার মণ্ডলকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজ্যের আইনজীবী বিভাস ভট্টাচার্য আদালতে জানান, মিনারের বাড়ি থেকে নগদ প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা সহ আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সোনার ওপর কালো টেপ পেঁচানো অবস্থায় পাওয়ায় এটি চোরাচালানের অংশ বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আইনজীবীর মতে, “বিরাট এলাকা জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধমূলক কাজকর্ম চলছে। বুধবার যা উদ্ধার হয়েছে, তা হিমশৈলের চূড়া মাত্র।” এই মামলায় দুর্নীতি দমন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৪০৯ (সরকারি সম্পত্তি লুট) ও ১১১ (সিন্ডিকেট অপরাধ) ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে।

ডাকাতির মামলার সূত্রে অভিযান ও গ্রেফতারি

মঙ্গলবার রাতে সাত অভিযুক্ত— অর্জুন লোহার, শেখ গিয়াসউদ্দিন, শেখ ফরজুদ্দিন, পুলক সাহা, শেখ ফিরোজ আহমেদ, অভিনব ভাতসা ও রবিকুমার গুপ্তকে একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার সিউড়ি আদালত তাদের দুই দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজারের ডেউচায় মিনারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলা অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সম্পদ। এরপরেই গ্রেফতার করা হয় মিনারকে। বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানান, তল্লাশির সময় মিনার স্বীকার করেছেন যে এই সোনা ও অর্থ টুলু মণ্ডলের অপরাধমূলক সিন্ডিকেটের।

মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল পলাতক

ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল পলাতক। সরকারি আইনজীবী জানান, গত ২৩ মে-র পর বিভিন্ন জায়গায় তাঁর অবস্থান জানা গেলেও তিনি ধরা দেননি। মিনারের দাবি, টুলু পালিয়ে যাওয়ার আগে তাঁকে এই সোনা ও নগদ দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে যান। জেরায় মিনার নিজেকে এই অপরাধের অংশীদার বলেও স্বীকার করেছেন। সরকারি আইনজীবীর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের টাকা ফাঁকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে তোলা আদায় এবং জমি আত্মসাৎ করে এই সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। বালি ও পাথর খাদানের অনিয়ম নিয়েও তদন্ত চালানো হবে।

একাধিক বাড়িতে তল্লাশি ও নথি সরানোর চেষ্টা

টুলুর সম্পত্তির খোঁজে পুলিশ বৃহস্পতিবার সিউড়ির সুভাষপল্লির বাসভবন, সোঁৎশালের বাড়ি এবং মহম্মদবাজারের একটি পার্কিং এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়।

অন্যদিকে, সিউড়ির নহোদরি এলাকায় বস্তা বস্তা নথিবোঝাই একটি গাড়ি আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে সিউড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নথিগুলি বাজেয়াপ্ত করে। টুলুর ম্যানেজার পার্থসারথি ঠাকুর স্বীকার করেন, মালিকের ফোন পেয়েই তিনি খামারবাড়ি থেকে অফিসের খাতা, ট্রাকের চালান ও পাথর বিক্রির নথি সরিয়ে গাড়িতে তুলছিলেন।

তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযুক্তদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্র ও ভুয়ো সিন্ডিকেটের আরও বহু তথ্য প্রকাশ্যে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.