আগামী ২০২৭ একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ফরম্যাটে পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে ম্যাচের সংখ্যা। বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে ফাইনালিস্ট দলগুলোকে এবার অন্তত ১৩ থেকে ১৪টি পর্যন্ত ম্যাচে অংশ নিতে হবে। আর এই বর্ধিত সূচির কারণে ক্রিকেটারদের শারীরিক ধকল ও চোটের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি দেশকে ন্যূনতম ১৭ জনের দল গঠনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে দল সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৪ করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতাটিতে সেমিফাইনালের আগে যুক্ত হচ্ছে ‘সুপার সেভেন’ রাউন্ড। ফলে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালিস্ট ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে যেখানে ১১টি করে ম্যাচ খেলতে হয়েছিল, আগামী বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠা দলগুলোকে খেলতে হবে ১৩ থেকে ১৪টি ম্যাচ।
ম্যাকডোনাল্ডের বক্তব্য ও ফুটবলের উদাহরণ
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টুর্নামেন্টের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দল গঠনের নিয়ম শিথিল করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি বলেন,
“গত বিশ্বকাপে ১৫ জনের স্কোয়াড নিয়ে আমাদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। ট্র্যাভিস হেডের চোটের কারণে টুর্নামেন্টের শুরুতে আমরা মাত্র ১২-১৩ জন ফিট ক্রিকেটার নিয়ে একাদশ সাজাতে বাধ্য হয়েছিলাম। একই পরিস্থিতিতে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডও।”
তিনি আরও যোগ করেন, বড় বড় দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও পিচের আচরণের পার্থক্য থাকে। প্রতিযোগিতার চলাকালেই কৌশলগত পরিবর্তনের জন্য হাতে বাড়তি বিকল্প রাখা প্রয়োজন। এছাড়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ফুটবল দলগুলোকে ২৬ জনের স্কোয়াড রাখার সুযোগ দেওয়া হয়, যেখানে তাদের সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলতে হয়। ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও পর্যাপ্ত ব্যাকআপ ও কৌশলগত নমনীয়তা থাকা আবশ্যক বলে মনে করেন তিনি।
২০২৭ বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিকাঠামো
- গ্রুপ পর্ব: ১৪টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে দলপ্রতি ৬টি করে ম্যাচ।
- সুপার সেভেন পর্ব: যোগ্যতা অর্জনকারী ৭টি দলের মধ্যে আরও ৬টি করে ম্যাচ।
- নকআউট পর্ব: সেমিফাইনাল ও ফাইনাল।
বিশ্রাম নিশ্চিত করতে আইসিসি দুটি ম্যাচের মাঝে অন্তত দুই দিনের বিরতি দেওয়ার কথা ভাবলেও স্কোয়াডের আকার ১৫ জনেই সীমিত রাখার পক্ষে। তবে ম্যাকডোনাল্ডের মতে, স্কোয়াডে অন্তত ১৭ জন ক্রিকেটার রাখার অনুমোদন দিলে দলগুলো চোট পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দেরও পুনর্বাসনের অধীনে দলে অন্তর্ভুক্ত করার ঝুঁকি নিতে পারবে।

