ছাত্র-যুবদের মিছিলে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার ১১ অভিযুক্ত! মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করা ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ পাকড়াও অণ্ডাল থেকে

ছাত্র-যুবদের মিছিলে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার ১১ অভিযুক্ত! মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করা ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ পাকড়াও অণ্ডাল থেকে

ছাত্র-যুবদের মিছিলে অশান্তি ও পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় তীব্র পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হলো মোট ১১ জন অভিযুক্তকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের কেউই ছাত্র বা পড়ুয়া নন।

শুক্রবার ধর্মতলায় শিক্ষায় দুর্নীতি ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। উক্ত ঘটনায় লালবাজারের তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া নতুন ‘গুন্ডাদমন আইন’ এই প্রথম প্রয়োগ করা হলো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

অণ্ডাল থেকে ভিন্‌রাজ্যে পালানোর ছক বানচাল

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন ভিন্‌রাজ্যে পালানোর ছক কষছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডাল থেকে মেটিয়াবুরুজের রাজাবাগানের বাসিন্দা মহম্মদ আফরোজ এবং গার্ডেনরিচের বাসিন্দা মহম্মদ আজাদকে পাকড়াও করে তদন্তকারীরা।

কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে:

  • আমহার্স্ট স্ট্রিট: আরশাদ আলি (৫০)।
  • জোড়াসাঁকো: ইরফান খুরশিদ, মহম্মদ আলমগির, ইমরান আহমেদ এবং খালিদ রেজা।
  • তিলজলা: মহম্মদ মইনুদ্দিন।
  • বেনিয়াপুকুর: জামির আহমেদ।
  • কড়েয়া: মহসিন খান এবং দীপক ভৌমিক।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

শনিবার সকালে বিধানসভায় এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “শুক্রবার ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল পৌঁছানোর পর অহেতুক জুতো ও বোতল ছোড়া শুরু হয়। সাংবাদিকদেরও নিশানা করা হয়। এতে ছয়জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। অশান্তি ছড়াতে চাওয়া হয়েছিল যাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়, কিন্তু পুলিশ অত্যন্ত সংযম দেখিয়েছে এবং কোনও ফাঁদে পা দেয়নি।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশের চিহ্নিত করা অন্তত ৭০ জন বহিরাগত ওই মিছিলে যোগ দিয়েছিল, যাদের সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্র বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র কোনও যোগ নেই। বিবৃতি দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী কয়েক জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতীর’ নামোল্লেখ করেন এবং স্পষ্ট জানান, নতুন গুন্ডাদমন আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা নজির হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.