ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তিনি পরিচিত ‘লর্ড’ ঠাকুর নামে। জাতীয় দলে ইদানীং খুব একটা নিয়মিত সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে মুম্বইয়ের হয়ে তিনি এখনও যথেষ্ট পরিচিত নাম। সেই শার্দূল ঠাকুরের উপহার দেওয়া বিশেষ ব্যাট হাতে নিয়েই ঐতিহ্যবাহী লর্ডসের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক স্মৃতিস্মারক শতরান হাঁকিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার পেছনের মজাদার গল্প নিজেই শুনিয়েছেন শার্দূল।
লর্ডস টেস্ট চলাকালীন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় উপস্থিত ছিলেন শার্দূল। রোহিতের ইনিংস চলাকালীন তিনি রসিকতা করে বলেন, “রোহিতের হাতে ওই ব্যাটটা কিন্তু আমার! আমি ধারাভাষ্য দিতে দিতেই যেন ভারতের হয়ে মাঠে খেলে যাচ্ছি।”
যেভাবে রোহিতের হাতে পৌঁছাল শার্দূলের ব্যাট
পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে শার্দূল বলেন, “আমি ‘এসএস’ (SS) ব্যাট প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সংস্থার মালিক যতীন সারিন আমাকে বেশ কিছু দুর্দান্ত কোয়ালিটির ব্যাট পাঠিয়েছিলেন। সেই ব্যাটগুলোর ভারসাম্য ও কাট রোহিতের খুব পছন্দ হয়ে যায় এবং সে আমার কাছে কয়েকটি ব্যাট চায়। রোহিত ভাই আমাদের কত সুন্দর ও স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, আমরা সবাই তাকে কতটা ভালবাসি! তাই তাকে না বলার প্রশ্নই ওঠে না। আমি তাঁকে কয়েকটি ব্যাট উপহার দিই। তারই একটি দিয়ে লর্ডসে ও ওই শতরানটি করেছে।”
ক্রিকেট মহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, পেসার ও অলরাউন্ডাররাই সাধারণত বিশেষজ্ঞ ব্যাটারদের কাছ থেকে ভালো মানের ব্যাট চেয়ে নেন। যেমন সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে বিরাট কোহলির ব্যাট দিয়ে চমৎকার হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতীয় পেসার আকাশদীপ। তবে এবার লর্ডসের মাঠে দেখা গেল ঠিক বিপরীত দৃশ্য— একজন বিশ্বমানের ব্যাটার রান পেলেন একজন অলরাউন্ডারের ব্যাটে।
শৈশবের বন্ধুত্ব ও একই স্যুপে বড় হওয়া
রোহিত ও শার্দূলের সম্পর্কের রসায়ন নতুন নয়। দু’জনেই মুম্বইয়ের ক্রিকেটার এবং একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। শুধু তাই নয়, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে শুরু করে মুম্বইয়ের রঞ্জি দল এবং আইপিএল— বহু বছর ধরে একসঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করেছেন দু’জনে। তাঁদের ছোটবেলার গুরুও একজনই— খ্যাতনামা কোচ দীনেশ লাড। সেই শৈশবের গভীর বন্ধুত্ব যে এখনও অটুট, শার্দূলের ব্যাটে রোহিতের এমন বিধ্বংসী সেঞ্চুরিই তার প্রমাণ।
সমালোচনার জবাব ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ইংল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা মোটেও আশানুরূপ ছিল না রোহিতের জন্য। প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১১ ও ২৬ রান করার পর ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন শুরু হয়, নির্বাচকেরা নাকি রোহিতকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁকে আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় রাখা হচ্ছে না। লর্ডসের ম্যাচটিই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচ হতে পারে বলেও কানাঘুষো চলছিল (যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই এই খবর খারিজ করে দেয়)।
তবে সমস্ত চাপ ও গুঞ্জন দূরে সরিয়ে লর্ডসের কঠিন পরিস্থিতিতে ১১০ বলে ১৩৮ রানের এক মাস্টারক্লাস ইনিংস খেলেন রোহিত। ব্যাট হাতে মাঠেই সমস্ত সমালোচনার জবাব দেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। আপাতত চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতের কোনো একদিনের সিরিজ নেই। ফলে লর্ডসে নিজের সক্ষমতা প্রমাণের পর আগামী দিনে রোহিত শর্মার ভবিষ্যত নিয়ে নির্বাচন কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব।

