নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁঝ ক্রমশ বাড়ছে। গত ২৮ জুন থেকে লাগাতার অনশনে বসেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনশনের ১৬-১৭ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও বিনোদন জগতের তারকাদের নীরবতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছিল। তবে সম্প্রতি বিশেষ করে ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ অভিযান’-এর পর থেকে পড়ুয়াদের সমর্থনে একের পর এক বলিউড ব্যক্তিত্ব সরব হতে শুরু করেছেন।
যদিও বলিউডের প্রথম সারির ‘খান’ (আমির খান ব্যতীত প্রবীণরা), ‘কপূর’, ‘কুমার’ কিংবা ‘দেবগন’ পরিবার এখনও এই বিষয়ে মুখ খোলেননি, তবে বলিউডের বহু নামী অভিনেতা, অভিনেত্রী ও শিল্পী সরাসরি আন্দোলনকারী ছাত্র ও সোনম ওয়াংচুকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
পুলিশি পদক্ষেপ ও তারকাদের প্রতিক্রিয়া
২০ জুলাই সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লির রাজপথ। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করেছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারকারা:
- হৃতিক রোশন: সোনম ওয়াংচুকের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে হৃতিক লেখেন, “এটা বড় সত্যি। আমি একটি ছবিতে শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম, তাই জানি পড়ুয়ারা কী পরিমাণ আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যায়।”
- সোনু সুদ: ২০ জুলাইয়ের ঘটনার সমালোচনা করে সোনু সুদ লেখেন, “আমাদের পড়ুয়াদের লাঠির দরকার নেই। ওদের দুটো হাতের প্রয়োজন, যারা আলিঙ্গন করবে।”
- ইমরান খান: ২১ জুলাই সংসদ অভিযানের পরের দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমরান প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ প্রতিবাদীদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে, লাঠিচার্জ করছে। এর কী ব্যাখ্যা দেব? এই বাচ্চাগুলো কি ভারতমাতার সন্তান নয়?” উল্লেখ্য, তাঁর মামা আমির খান সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করে অস্ট্রেলিয়াতে মধুচন্দ্রিমায় থাকায় এই বিষয়ে এখনও নীরব।
- সোনাক্ষী সিন্হা: সংসদ অভিযানের একাধিক ছবি শেয়ার করে সোনাক্ষী লেখেন, “২০ জুলাই—এই দিনে বহু মানুষের হাড় ভাঙল, আর গোটা দেশের মন ভেঙে গেল। সব মনে রাখতে হবে।”
যন্তর মন্তরে প্রত্যক্ষ সমর্থন ও উপস্থিতি
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলনে অনেকেই সরাসরি যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে সমর্থন জানিয়েছেন:
- স্বরা ভাস্কর: যন্তর মন্তরে পৌঁছে সোনম ওয়াংচুক এবং সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্বরা। তিনি লেখেন, “আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যতের রক্ষার্থে লড়াই করার জন্য ধন্যবাদ।”
- প্রকাশ রাজ, শবানা আজ়মী, নসীরুদ্দীন শাহ ও বিবান শাহ: আন্দোলন শুরুর প্রথম থেকেই প্রকাশ্যে সরব হওয়ার পাশাপাশি যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি নিজেদের সংহতি জানান তাঁরা।
মানবিক বার্তা ও আলোচনার আহ্বান
- দীয়া মির্জ়াও সোহা আলী খান: দীয়া মির্জ়া মন্তব্য করেন যে পড়ুয়াদের কণ্ঠরোধ না করে তাঁদের কথা সহানুভূতির সঙ্গে শোনা উচিত। (যদিও তাঁর ‘রহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ ছবির সহ-অভিনেতা আর মাধবন এখনও নীরব)। অন্যদিকে সোহা আলী খান লেখেন, “ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের। ওদের যেন সব সময় প্রশ্ন করার ও শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকে।”
- প্রীতি জ়িন্টা: সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রীতি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার আবেদন জানান। একই সঙ্গে তিনি সোনমকে অনশন ভঙ্গের অনুরোধও জানান।
- রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া দেশমুখ: তারকা দম্পতি একসুরে জানান, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাই তাঁদের উদ্বেগকে উপেক্ষা না করে সহানুভূতির সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো উচিত।
- অদিতি রাও হায়দরী: অদিতি বলেন, “রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ যা-ই হোক না কেন, মানবিকতা সবার উপরে থাকা উচিত।”
- বীর দাস: কৌতুকশিল্পী ও অভিনেতা বীর দাস শিল্পীদের উদ্দেশ্যে মুখ খোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রদের এই আন্দোলনে নীরব থাকা মানে ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোর সুযোগ হারানো।
এছাড়াও রিচা চড্ঢা, বিশাল দদলানী, শিল্পা রাও, অনুরাগ কশ্যপ, মধুবন্তী বাগচী এবং ফাতিমা সনা শেখ-এর মতো বিনোদন জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব অনবরত এই আন্দোলনের সমর্থনে সোচ্চার হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, শীর্ষ সারির কয়েকজন তারকার নীরবতা বজায় থাকলেও, নিট কেলেঙ্কারি ও ছাত্রদের প্রতিবাদের দাবিতে বিনোদন জগতের একটি বড় অংশ এখন আন্দোলনের অন্যতম বড় কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে।

