কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় দ্বিগুণ হলো আমেরিকা বিশ্বকাপের ট্রফির দাম, সোনার আকাশছোঁয়া মূল্যের জের

কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় দ্বিগুণ হলো আমেরিকা বিশ্বকাপের ট্রফির দাম, সোনার আকাশছোঁয়া মূল্যের জের

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্তাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি যে সোনালী ট্রফিটি হাতে তুলেছিলেন, আগামী ২০২৬ আমেরিকা বিশ্বকাপে তার বাজারদর এক ধাক্কায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে সোনার দাম রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই ঐতিহ্যবাহী ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির আর্থিক মূল্য এতখানি বেড়েছে বলে একটি বেসরকারি সংস্থার সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গেছে।

ট্রফির ওজন ও সোনার পরিমাণ

বিশ্বকাপের মূল ট্রফিটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ ক্যারেটের খাঁটি সোনা দিয়ে। এই ট্রফিটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • মোট ওজন: ৬.১৭৫ কেজি।
  • সোনার পরিমাণ: ট্রফিটিতে মোট ৪.৯৩ কেজি সোনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপড়েন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিককালে সোনার বাজারে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির বাজারদরের ওপর।

১৯৭৪ থেকে ২০২৬: যেভাবে বাড়ল ট্রফির দর

একটি বেসরকারি সংস্থার এক উচ্চপদস্থ কর্তা ট্রফির মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমলেও, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনার কোনো বিকল্প নেই। ফুটবলারদের কাছে বিশ্বকাপ ট্রফিটি অমূল্য হতে পারে, কিন্তু বর্তমানে এতে থাকা সোনার পরিমাণ এবং বাজারমূল্য বিচার করলেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে গত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে কী বিপুল পরিবর্তন এসেছে।”

নিচে দেওয়া তালিকা থেকে বিগত দশকগুলিতে এই ট্রফির আর্থিক মূল্যের পরিবর্তন স্পষ্ট অনুধাবন করা যায়:

বছর/সংস্করণবাজারমূল্য (ডলারে)ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক মূল্য
১৯৭৪ (নির্মাণকাল)২৫,০০০ ডলার২ লক্ষ টাকার কিছু বেশি
২০২২ (কাতার বিশ্বকাপ)২,৭৭,০০০ ডলারপ্রায় ২ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা
২০২৬ (আমেরিকা বিশ্বকাপ)৭,১৩,০০০ ডলারপ্রায় ৬.৭৩ কোটি টাকা

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এত বিপুল পরিমাণ সোনা দিয়ে তৈরি ট্রফি আর দ্বিতীয়টি নেই। ফলে আভিজাত্য এবং আর্থিক মূল্য— উভয় দিক থেকেই এই বিশ্বকাপ ট্রফি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

অন্যান্য ফুটবল ও ক্রীড়া ট্রফির সঙ্গে তুলনা

বিশ্বকাপ ট্রফির ধারেকাছেও নেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যান্য মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিগুলি। কারণ সেগুলির সিংহভাগই রুপো দিয়ে তৈরি।

  • উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: এই ট্রফির আনুমানিক বাজারমূল্য মাত্র ১৬ লক্ষ টাকা।
  • ইউরোপা লিগ: এর বাজারমূল্য প্রায় ২১.৫০ লক্ষ টাকা।
  • বর্গ-ওয়ার্নার ট্রফি: আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী এই ট্রফিটির দাম ১ কোটি টাকার সামান্য উপরে।

এ ছাড়া বিশ্ব ক্রীড়াজগতে ১ কোটি টাকার কাছাকাছি মূল্যের আরও কিছু ট্রফি থাকলেও, আমেরিকা বিশ্বকাপের ট্রফির বর্তমান বাজারদর (৬.৭৩ কোটি টাকা) সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের বিশ্বজয়ী দল যে কেবল বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরবে তাই নয়, অত্যন্ত মূল্যবান এক ঐতিহাসিক স্মারকও নিজেদের দেশে নিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.