টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চরম বিপর্যয়: মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে ক্যাপ্টেন ফতিমার তুমুল বিবাদ, উত্তাল পাক সাজঘর

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চরম বিপর্যয়: মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে ক্যাপ্টেন ফতিমার তুমুল বিবাদ, উত্তাল পাক সাজঘর

মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে হেরে ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েছে পাকিস্তান দল। এই ভরাডুবির মাঝেই এবার প্রকাশ্যে এল পাক সাজঘরের চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিশৃঙ্খলার খবর। দলের মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজ এবং অধিনায়ক ফতিমা সানার তীব্র বিরোধের জেরে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের অন্দরে কার্যত ভাঙন ধরেছে বলে জানা গিয়েছে।

বিরোধের মূলে প্রথম একাদশ নির্বাচন ও শৃঙ্খলাভঙ্গ

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজ এবং অধিনায়ক ফতিমা সানার বিরোধ তুঙ্গে পৌঁছায়। খাতায়-কলমে ওয়াহাব রিয়াজ মেন্টর হলেও, অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনিই দলের প্রধান কোচের ভূমিকা পালন করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, দল গঠনের ক্ষেত্রে তিনি অধিনায়ক ফতিমার মতামতকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না।

বাংলাদেশ ম্যাচের আগে এই অশান্তি চরমে পৌঁছোয়, যার মূল সূত্রপাত ছিল দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আলিয়া রিয়াজের স্বামী আলি ইউনিসের হোটেলের রুমে থাকা নিয়ে। আলিয়া দলের হোটেলে নিজের ঘরেই স্বামীকে রেখেছিলেন, যা অধিনায়ক হিসেবে ফতিমা সানা মোটেও পছন্দ করেননি। পাক দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছেন:

“ফতিমার কড়া আপত্তির কারণেই শেষ পর্যন্ত ইউনিসকে ঘর ছাড়তে বলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ম্যাচের আগের দিন আলিয়া দলের অনুশীলন সেশন বাদ দিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে চলে যান। এই চরম অপেশাদার আচরণে ক্ষুব্ধ ছিলেন অধিনায়ক।”

মাঠে হার এবং মেন্টর-অধিনায়কের বাদানুবাদ

এই শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে আলিয়া রিয়াজকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন ফতিমা। কিন্তু মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজ অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আলিয়াকে দলে খেলান। দুর্ভাগ্যবশত, সেই ম্যাচে পাকিস্তান পরাজিত হয় এবং আলিয়া ব্যাট হাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।

ম্যাচ শেষ হতেই সাজঘরে ক্ষোভ উগরে দেন ফতিমা। সকলের সামনেই মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। দলের এই হারের জন্য সরাসরি ওয়াহাব রিয়াজকে দায়ী করার পাশাপাশি দলের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার জন্যও মেন্টরকে কাঠগড়ায় তোলেন অধিনায়ক।

পিসিবি-র প্রতিক্রিয়া ও দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) জানিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এই খবরের সত্যতা সরাসরি স্বীকার না করলেও, উড়িয়ে দেয়নি। পিসিবি-র সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দলের মধ্যে একাধিক উপদল বা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সাপোর্ট স্টাফ— সকলেই জড়িয়ে পড়েছিলেন। ফলে বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টে খেলতে নেমেও পাক দলের মধ্যে ন্যূনতম একতা বা সংহতি ছিল না, যার চরম প্রতিফলন ঘটেছে মাঠের পারফরম্যান্সে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.