বগটুই গণহত্যার ৪ বছর পর সিবিআইয়ের জালে মূল অভিযুক্ত রোহন শেখ, কলকাতা থেকে গ্রেফতার

বগটুই গণহত্যার ৪ বছর পর সিবিআইয়ের জালে মূল অভিযুক্ত রোহন শেখ, কলকাতা থেকে গ্রেফতার

বীরভূমের রামপুরহাটের বগটুই মোড়ে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার ঘটনায় দীর্ঘ চার বছর ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়লেন অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত রোহন শেখ ওরফে কিসমত শেখ। মঙ্গলবার কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাঁকে গ্রেফতার করেন। ঘটনার পর থেকেই তদন্তকারীদের চোখ এড়িয়ে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।

সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বগটুই কাণ্ডে রুজু হওয়া মূল এফআইআর-এ (FIR) প্রথম থেকেই রোহনের নাম ছিল। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রামপুরহাট আদালতে জমা দেওয়া সিবিআইয়ের মূল চার্জশিট এবং তিনটি অতিরিক্ত চার্জশিটে যে ২৭ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে, তার মধ্যে রোহন অন্যতম। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় ইতিপূর্বেই তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

আদালত কর্তৃক ‘ঘোষিত অপরাধী’

গ্রেফতারি এড়াতে বার বার স্থান পরিবর্তন করা এবং বিচারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে চলায় ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল রামপুরহাট মহকুমা আদালত রোহন শেখকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ (Proclaimed Offender) হিসেবে ঘোষণা করে। আদালতের এই নির্দেশের পরও তাঁর হদিশ মিলছিল না। সম্প্রতি গোপন সূত্রে সিবিআই আধিকারিকেরা জানতে পারেন যে ধৃত অভিযুক্ত কলকাতায় আত্মগোপন করে আছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অতর্কিতে হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।

বগটুই কাণ্ডের প্রেক্ষাপট

২০২২ সালের ২১ মার্চ সন্ধ্যায় বীরভূমের রামপুরহাটের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের উপপ্রধান ভাদু শেখ বগটুই মোড়ে বোমা ও গুলির আঘাতে খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই রাতেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠে গোটা বগটুই গ্রাম। ভাদু শেখের অনুগামীরা গ্রামের একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

এই নৃশংস অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিশু ও মহিলাসহ মোট ১০ জনের পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তৎকালীন সময়ে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

আদালতের হস্তক্ষেপে সিবিআই তদন্ত

বগটুই কাণ্ডের ভয়াবহতার জেরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনা গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। আদালতের কঠোর নির্দেশে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই।

রোহন শেখের গ্রেফতারিকে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে রামপুরহাট আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.