‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক অস্ত্রের বাজারে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে রাশিয়া ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা। ফিলিপিন্সের পর এবার পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ভারতের কাছ থেকে এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ‘ব্রহ্মস’ কেনার হিড়িক
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, শুধু সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-ই নয়, বিশ্বের একাধিক দেশ বর্তমানে ভারতের এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিজেদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে অত্যন্ত আগ্রহী:
- ইন্দোনেশিয়া: ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কয়েক মাস আগেই জানিয়েছিল, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস বিক্রির সরকারি আলোচনা একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জাকার্তাও এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে।
- অন্যান্য দেশ: ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছাড়াও ব্রাজিল, ভিয়েতনাম, তাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চিলির মতো দেশের সঙ্গেও এই শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে নয়াদিল্লির আলোচনা চলছে।
কেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘ব্রহ্মস’?
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ব্রহ্মস এরোস্পেস লিমিটেড’-এর এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও নিখুঁত দূরপাল্লার অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- বহুমাত্রিক উপযোগিতা: ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের মূলত চারটি সংস্করণ রয়েছে। এটি যুদ্ধজাহাজ (Naval), ডুবোজাহাজ (Submarine), যুদ্ধবিমান (Air-launched) এবং স্থলবাহিনীর মোবাইল লঞ্চার (Land-based) থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিক্ষেপ করা সম্ভব।
- অবিশ্বাস্য গতি: এটি একটি সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গতিতে (প্রায় ২.৮ ম্যাক) ছুটে গিয়ে শত্রুর ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম।
- পাল্লা ও আধুনিকীকরণ: বর্তমানে ভারতীয় সেনার অস্ত্রাগারে থাকা ‘ব্রহ্মস মার্ক-১’ সংস্করণের আঘাত হানার ক্ষমতা বা পাল্লা হলো ৪৫০ কিলোমিটার। তবে এখানেই থেমে থাকছে না দুই দেশ। সম্প্রতি নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘ব্রহ্মস মার্ক-২’ সংস্করণ নির্মাণের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও অগ্রগামী আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো প্রথম সারির দেশের এই আগ্রহ প্রমাণ করে যে, ভারত এখন কেবল অস্ত্র আমদানিকারী দেশ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে একটি বড় সামরিক রপ্তানিকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

